Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে ফের জটিলতা তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত ইন্দু মালহোত্রা কমিটির (Indu Malhotra Committee) সঙ্গে মামলাকারী সংগঠনগুলির প্রস্তাবিত বৈঠক শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মী সংগঠনের নেতারা। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আন্দোলনে নামার বার্তা দিলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া নিয়ে টালবাহানা চললে পথে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
কেন ভেস্তে গেল বৈঠক?
বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ভাস্কর ঘোষ জানান, একাধিকবার চেষ্টা করেও মালহোত্রা কমিটির সঙ্গে বৈঠকে সমস্যাগুলির ফলপ্রসূ সমাধান বের করা সম্ভব হয়নি। এরপর সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় কমিটির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে তাঁদের বক্তব্য শোনানোর আবেদন করা হয়। ভাস্করের দাবি, সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কমিটিকে মামলাকারী সংগঠনগুলির বক্তব্য শোনার নির্দেশ দেয়। এরপর কমিটির তরফে বৈঠকের দিনও নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠক আর হল না।
BRICS বৈঠকের প্রসঙ্গ
বৈঠক বাতিল হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে ভাস্কর ঘোষ তাঁর পোস্টে BRICS গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ওই আন্তর্জাতিক বৈঠক আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং সেখানে একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা। তবে বিচার বিভাগীয় কমিটি হওয়ায় কমিটির কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশ্যে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
‘হতাশ নই, নতুন করে লড়াই’
বৈঠক ভেস্তে গেলেও আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনও ইঙ্গিত দেননি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক। বরং বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) এবং গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের পাওনা নিয়ে নতুন করে আন্দোলনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তিনি। ভাস্কর ঘোষের কথায়, “গ্ৰান্ট-ইন-এইড কর্মচারীদের বকেয়া নিয়ে টালবাহানা চললে পথে নামবো, তবে এবার নামলে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করার জন্য নামবো।”
আগেও বৈঠক বাতিলের অভিযোগ
এর আগে ইন্দু মালহোত্রা কমিটির সঙ্গে বৈঠক বারবার বাতিল হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়। ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ২৪ এপ্রিল এবং ১ মে ২০২৬-এ দু’বার বৈঠকের দিন ঘোষণা করার পর প্রতিবারই নির্ধারিত দিনের একদিন আগে তা বাতিল করা হয়েছিল। এবারও একই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তাঁর।
মলয় মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বারবার বৈঠকের দিন বাতিল হওয়ায় মামলাকারী কর্মী সংগঠনগুলিকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবার যাতায়াতের জন্য বিমানের টিকিট কাটার পর বৈঠক বাতিল হওয়ায় সেই অর্থও নষ্ট হচ্ছে। ফলে বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মামলায় কর্মী সংগঠনগুলির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।


