Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: দিল্লির (Delhi) সত্য নিকেতন এলাকায় পিজি (PG) বিল্ডিং ধসের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। এবার পুলিশের জেরায় উঠে এসেছে আরও দুই ব্যক্তির নাম। বিল্ডিংয়ের মালিকের ছেলে মহেশ বনসলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই দুই ব্যক্তির সম্পর্কে জানতে পেরেছে পুলিশ বলে সূত্রের খবর।
পুলিশের কাছে মহেশ জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের অগস্ট মাস থেকে তিনি ওই বাড়িটি দুই ব্যবসায়িক অংশীদার শুভম ত্যাগী এবং সুধাংশুকে লিজে দিয়েছিলেন। এরপর ওই বাড়িতেই ‘হস্টেল ডেজ’(Hostel Daze) নামে একটি PG চালানো হচ্ছিল। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই PG পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সুধাংশুকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, শুভম ত্যাগীর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। পুরো ঘটনার পিছনে কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
রবিবার দুপুরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতনে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মেরামতির কাজ চলার সময় আচমকাই পাঁচতলা বাড়িটির একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। ওই বাড়িতে মূলত ছাত্রদের PG চলত। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন বেশ কয়েকজন। প্রায় ২৭ ঘণ্টা ধরে চলে উদ্ধারকাজ। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।
তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, বাড়িটি বেশ কয়েক দশকের পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে বেসমেন্টে জল চুঁইয়ে পড়ার সমস্যা ছিল বলেও জানা গিয়েছে। প্রায় ৫৫ বর্গমিটার জায়গার উপর তৈরি ওই বাড়িতে ছিল বেসমেন্ট, গ্রাউন্ড ফ্লোর এবং তার উপরে আরও চারটি তলা। প্রতিটি তলায় দুটি করে ঘর ছিল এবং প্রতি ঘরে দুটি করে বেড রাখা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, বাড়িটির নির্মাণ কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, বাড়িটিতে কোনও কলাম বা বিম ছিল না বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বাড়ির মালিকপক্ষের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হয়েছেন ৮১ বছরের হরিরাম গুপ্ত, তাঁর ৭৫ বছরের স্ত্রী উর্মিলা গুপ্ত এবং তাঁদের ৫২ বছরের ছেলে মহেশ গুপ্ত। প্রথম দিকে হরিরামকেই বাড়িটির মালিক বলে মনে করা হলেও পরে নথিপত্র পরীক্ষা করে পুলিশ জানতে পারে, সম্পত্তিটির মালিক আসলে উর্মিলা। অন্যদিকে, হরিরাম ও মহেশ PG পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।
বিল্ডিং ধসের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দুর্ঘটনার পর দক্ষিণ দিল্লি পুরসভার সাউথ জোনের ডেপুটি কমিশনার রাকেশ কুমার এবং চার ইঞ্জিনিয়ারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।


