32 C
Kolkata
Wednesday, September 9, 2026
spot_img

বিরিয়ানি থেকে মিষ্টি, পাতে পড়ছে পচা খাবার! পুজোর আগে ৪০ রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড

Aaj India Desk, কলকাতা: কলকাতার সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক বহু পুরনো। রসগোল্লা, বিরিয়ানি, কাবাব থেকে শুরু করে কাটি রোল—শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য নামী খাবারের দোকান (Food Shop)। কলকাতায় বেড়াতে আসা পর্যটকরাও এই খাবারগুলির স্বাদ নিতে ভোলেন না। কিন্তু সেই জনপ্রিয় খাবারের দোকানগুলির রান্নাঘরের ভিতরের ছবি সামনে আসতেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পুজোর আগে গত কয়েকদিন ধরে কলকাতার বিভিন্ন রেস্তরাঁ, খাবারের দোকান ও বাজারে অভিযান চালিয়েছে কলকাতা পুরসভা (KMC) এবং খাদ্য সুরক্ষা দফতর (FSD)। পুরসভার দাবি, মোট ১৭০টি রেস্তরাঁ ও খাবারের জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স (Licences) আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। অভিযান চলাকালীন প্রায় দেড় টন নষ্ট ও নিম্নমানের খাবারও ফেলে দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের তালিকায় কলকাতার বেশ কিছু পরিচিত খাবারের দোকানের নামও রয়েছে। রিপন স্ট্রিটের করিমস, ধর্মতলার নিজামস, শিমলা বিরিয়ানি, পার্কস্ট্রিটের তুং ফং ও মোক্যাম্বো, ট্যাংরার বিগ বস-সহ বিভিন্ন এলাকার রেস্তরাঁয় পরিদর্শন চালানো হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু মিষ্টির দোকান এবং কলকাতার পনিরপট্টিতেও অভিযান চালানো হয়।

কী কী অনিয়মের অভিযোগ?

অভিযান চালানোর সময় আধিকারিকদের নজরে আসে, বেশ কিছু জায়গায় রান্নাঘরের পরিবেশ অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন। খাবার রাখার জায়গাতেও ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। কোথাও খাবারে ছত্রাক দেখা গিয়েছে, কোথাও আবার নিম্নমানের বা নষ্ট সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। কয়েকটি জায়গায় খারাপ মাংস এবং খাবারে ব্যবহারের অনুপযুক্ত রাসায়নিক পদার্থও উদ্ধার হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।

রান্নায় ব্যবহৃত তেল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আধিকারিকদের দাবি, নির্দিষ্ট কয়েকবার ব্যবহারের পর তেল বদলে ফেলার কথা থাকলেও কোথাও কোথাও একই তেল বহুবার ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে খাবারের গুণমান ও মানুষের স্বাস্থ্যের উপর তার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে বলেন, ‘হাইজিন ও ফাঙ্গাস মেইন ইস্যু। যা দেখা গেছে, তা অবাক করার মতো। ৪০টার অবস্থা খুবই খারাপ।’

লাইসেন্স স্থগিত হওয়ার পর কী হবে?

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, লাইসেন্স স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণের জায়গা পরিষ্কার করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়ম মেনে সবকিছু ঠিক করার পর ফের খাবার বিক্রির অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, পুজোর আগেও এই অভিযান চলবে। যেসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত নিজেদের পরিকাঠামো ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা ঠিক করবে, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে লাইসেন্স ফেরানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সপ্তায় সপ্তায় ঠিক করেছিলাম কোথায় যাব। রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে বাজার সব জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছি। যা পাওয়া গেছে, তা অবাক করার মতো। ৪০টা রেস্তরাঁর অবস্থা খুবই শোচনীয়। তার মধ্যে অনেক জনপ্রিয় রেস্তরাঁও রয়েছে। এই অভিযান থেকে আমরা বুঝলাম মিষ্টির দোকানগুলোকে আরও পরিষ্কার রাখতে হবে। লাইসেন্স স্থগিত হয়েছে বলরাম মল্লিক, গিরীশ চন্দ্র দে, মিষ্টিমুখের মতো দোকানের।’

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন