Aaj India Desk, কলকাতা: সম্প্রতি নবান্নের তরফে মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্সে (Eden Gardens Durga Puja) বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্গাপুজোর সূচনা হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। তবে এবার সেই অনুষ্ঠানে বিশেষ চমকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের হাতেই দুর্গাপ্রতিমার চক্ষুদান করতে চলেছেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই ইডেনে প্রবেশ করবেন। পুরো অনুষ্ঠান ঘিরে একাধিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে কিছু কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে।
রেড রোডে ২৩ জেলার সংস্কৃতি
বিকেল চারটে নাগাদ ইডেনে (Eden Gardens Durga Puja) এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে। তবে ইডেনের মূল অনুষ্ঠানের আগে রেড রোডে রোড শো ও পুজোর শোভাযাত্রার আয়োজন থাকছে। আলোকসজ্জায় সেজে ওঠা রেড রোডে বাংলার ২৩ জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। বিভিন্ন জেলার নিজস্ব লোকনৃত্য ও লোকসংস্কৃতির পরিবেশনা থাকবে এই শোভাযাত্রায়।
তামাং সেলো থেকে ছৌ—এক মঞ্চে বাংলা
দার্জিলিঙের তামাং সেলো, কালিম্পঙের লেপচা নাচ এবং উত্তরবঙ্গের রাজবংশী লোকনৃত্য থাকবে অনুষ্ঠানের তালিকায়। পাশাপাশি মালদহের গম্ভীরা, বীরভূমের বাউল, পূর্ব বর্ধমানের রাইবেশে এবং পশ্চিম বর্ধমানের সাঁওতালি নাচও পরিবেশিত হবে। নদিয়ার গৌড়ীয় বৈষ্ণব নাচ, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার ছৌ, ঝাড়গ্রামের সাঁওতালি নাচ, পূর্ব মেদিনীপুরের পটুয়ার গান, হুগলির রামপ্রসাদী, হাওড়ার লোকনাট্য এবং উত্তর ২৪ পরগনার বনবিবি পালার মতো পরিবেশনাও থাকছে। অর্থাৎ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের লোকঐতিহ্যকে একই মঞ্চে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
১০ হাজার ঢাক, ১ হাজার মহিলার উলুধ্বনি
প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী ইডেনে প্রবেশের সময় প্রায় এক হাজার মহিলার উলুধ্বনি এবং ১০ হাজার ঢাকের বাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এত বড় পরিসরে আয়োজন বাস্তবায়িত হলে তা বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি স্টেডিয়াম পরিক্রমার সময় পুজোর গান পরিবেশন করার কথা রয়েছে গায়িকা শ্রেয়া ঘোষালের। সাথে ‘মা আসছে : উমা স্টোরি’ থিমে থ্রিডি প্রজেকশন ম্যাপিং শো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্গাপুজোর আবহ এবং উমার কাহিনি তুলে ধরা হবে সেই শোয়ে। (Eden Gardens Durga Puja)
উল্লেখ্য, এই পুজো অনুষ্ঠান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সঙ্গে রাজ্য সরকারের একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকের পরেই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেনের মঞ্চে চক্ষুদান, বাংলার লোকসংস্কৃতির পরিবেশনা, বৃহৎ ঢাকের আয়োজন এবং থ্রিডি প্রজেকশন মিলিয়ে এ বছরের দুর্গাপুজোর সূচনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।


