Aaj India Desk, কলকাতা: কলকাতায় এসে রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে একই টেবিলে বসে খেতে দেখা গিয়েছিল মধ্যপ্রদেশের ধর্মীয় বক্তা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে (Dhirendra Shastri), যিনি বাগেশ্বর বাবা নামেও পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও (Suvendu Adhikari) ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। তবে কলকাতা সফর শেষ করে তিনি ফিরে গেলেও তাঁর একটি মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক থামেনি।
দুর্গাপুজোর (Durga Puja) সময় বাঙালির আমিষ খাওয়ার প্রসঙ্গেই আপত্তি জানিয়েছিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। তাঁর সেই বক্তব্য নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা। বিশেষ করে পুজোর সঙ্গে বাঙালির খাবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা সামনে এনে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, বাইরে থেকে এসে বাঙালির খাবার নিয়ে এমন মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য।
এই পরিস্থিতিতে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য থেকে নিজেদের অবস্থান আলাদা করে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বঙ্গ বিজেপি (BJP)। দলের একাধিক নেতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোয় বাঙালির আমিষ খাওয়া নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। একইসঙ্গে তাঁরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বক্তব্যকে বিজেপির বক্তব্য হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিষয়টি নিয়ে বিজেপির নেতারা কে কী বললেন, দেখে নেওয়া যাক—
দিলীপ ঘোষ (মন্ত্রী):
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, বাংলায় পাঁঠা বলির দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে। সেই পাঁঠার মাংস প্রসাদ হিসেবেই খাওয়া হয়। তাই বাংলায় মাংস খাওয়া নিয়ে বিতর্কের কোনও কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, রামচন্দ্র ক্ষত্রিয় ছিলেন এবং বনবাসের সময় তিনিও মাংস খেয়েছিলেন।
সুকান্ত ভট্টাচার্য (কেন্দ্রীয় মন্ত্রী):
বাগেশ্বর বাবা কী বলছেন, তা নিয়ে এত চিন্তা করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, একজন মানুষ কী বলবেন বা কী খাবেন, সেই বিষয়ে অন্য কেউ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারেন না।
শমীক ভট্টাচার্য (রাজ্য বিজেপির সভাপতি):
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বাঙালির পুজোর খাবারের নিজস্ব রীতি রয়েছে। সাধারণত অষ্টমীতে লুচি খাওয়া হয়, আবার নবমীতে পাঁঠার মাংসও খাওয়া হয়। তাই বাঙালি নিজের মতোই খাবে। তাঁর কথায়, কেউ যদি স্বামী বিবেকানন্দের থেকেও নিজেকে বেশি জ্ঞানী মনে করেন, তাহলে বিষয়টি বিপজ্জনক।
অগ্নিমিত্রা পাল (মন্ত্রী):
অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, পুজো এলেই বাঙালি মটন, ইলিশের মতো পছন্দের খাবারের অপেক্ষায় থাকে। তাই বাঙালির খাবার বা পোশাক নিয়ে বাইরে থেকে এসে কেউ নির্দেশ দিতে পারেন না।
সজল ঘোষ (বিধায়ক):
সজল ঘোষ আরও সরাসরি বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য থেকে দূরত্ব তৈরি করেন। তিনি বলেন, “বাগেশ্বর বাবার কথা ছাড়ুন। ইনি বাংলার বাবা নন।” তাঁর বক্তব্য, তিনি নিজের পরিবারের কাছ থেকে যে শিক্ষা পেয়েছেন, সেটাই মেনে চলবেন। বাঙালির পুজোর রীতি সম্পর্কে বাঙালিরা নিজেরাই জানেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বাগেশ্বর বাবা বিজেপির কেউ নন এবং দলও এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বঙ্গ বিজেপি। দলের নেতাদের বক্তব্যে অন্তত এটুকু পরিষ্কার, বাঙালির পুজোর খাবারের রীতি নিয়ে তাঁরা কোনও বিধিনিষেধের পক্ষে নন।


