Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : রাজ্যের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে ভিডিওতে হাতাহাতি করতে দেখে কেমন লাগতে পারে আপনার? মঙ্গলবার সকালে বিধায়ক রেখা পাত্রের (Rekha Patra) সন্দেশখালিতে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ গড়িয়েছিল হাতাহাতিতে। আর সেই ভিডিয়োই ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাজ্যে। তারপরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে সন্দেশখালি এলাকার মানুষের মধ্যে। তাঁদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এহেন রূপে দেখে প্রায় বিব্রত তাঁরা।
৯ বিঘা জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ
ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লকের সন্দেশখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের বউঠাকুরান গ্রামের। স্থানীয় সূত্রের দাবি, রেখা পাত্রের (Rekha Patra) বাবার বাড়ির প্রায় ৯ বিঘা জমি নিয়ে শরিক কালিপদ নস্কর ও তাঁর ছেলে সুভাষ নস্করের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ রয়েছে। জমির মালিকানা এবং রেকর্ড নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে টানাপড়েন চলছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। ২০১৪ সালে রেখা পাত্রের বাবা দিলীপ পাত্র ওই জমির রেকর্ড করাতে গেলে শরিকদের সঙ্গে বিবাদ বাধে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগও হয়।
পরবর্তী সময়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধ কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের নির্দেশে সুভাষ নস্কর ওই চাষের জমিতে চাষ করার অধিকার পান বলে তাঁর পরিবারের দাবি।সেই নির্দেশ মেনে পুলিশি উপস্থিতিতে সুভাষ নস্কর জমিতে চাষ করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।
বচসা থেকে হাতাহাতি
অভিযোগ, সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছন হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র (Rekha Patra) এবং তাঁর অনুগামীরা। প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে তা ধস্তাধস্তি এবং হাতাহাতিতে গড়ায় বলে অভিযোগ।ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে রেখা পাত্রকেও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়তে দেখা গিয়েছে। তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চর্চা শুরু হয়েছে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পুলিশের উপস্থিতিতে এমন ঘটনায় জড়িয়েছেন কেনো, সেই প্রশ্ন তুলেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়দের একাংশ। তবে এই বিষয়ে রেখা পাত্রের তরফে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


