কাঠমান্ডু: পাহাড়ি নদীর গর্জন থেমে গেলেও থামেনি মানুষের আর্তনাদ। নেপালের আকস্মিক বন্যা (Nepal Flash flood) ও ভূমিধসের ছয় দিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে হাজারো অজানা গল্প। সোমবার পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০৩, আর ৪,২৫০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ। প্রতিটি উদ্ধার হওয়া দেহ যেন কারও সন্তানের, কারও বাবার, কারও স্বপ্নের শেষ পরিচয়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছবি ফুটে উঠেছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে। নয়টি প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মী এখনও নিখোঁজ। হড়পা বানের (Nepal Flash flood) সময় তারা সুড়ঙ্গের গভীরে কাজ করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি ঢল টানেল গ্রাস করে নেয়। তাদের পরিবার আজও অপেক্ষা করছে, কেউ ফিরে আসবে, নাকি শুধু স্মৃতিই ফিরবে!
উদ্ধার অভিযানে নেমেছে নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী দল। ভারতও পাঠিয়েছে ১৯ সদস্যের ফরেনসিক দল এবং বিশেষ টানেল উদ্ধারকারী বাহিনী। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে, যাতে অন্তত স্বজনরা প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাতে পারেন।
ধ্বংসস্তূপের ভেতরে উদ্ধার ৫০ কোটির সোনা
এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের (Nepal Flash flood) মাঝেই সামনে এসেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলীর কৃষি বিকাশ ব্যাঙ্ক সম্পূর্ণ বন্যার জলে ডুবে যায়। কয়েকদিন পর জল নামতেই শুরু হয় জীবনবাজি রাখা উদ্ধার অভিযান। প্রায় আট ঘণ্টার টানা অভিযানে উদ্ধারকারী দল ব্যাঙ্কের লকার থেকে প্রায় ৫০ কোটি নেপালি রুপি মূল্যের সোনা, দেড় কোটি রুপির নগদ টাকা, রুপো এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিরাপদে বের করে আনে। চারদিকে মৃত্যু আর ধ্বংসের মধ্যেও এই উদ্ধার যেন দায়িত্ববোধের এক বিরল দৃষ্টান্ত।
নেপালের বন্যার জল, বিহারে ভেসে এল বিশাল মাছ
বিপর্যয়ের প্রভাব থেমে থাকেনি সীমান্তে। নেপালের ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর বন্যার (Nepal Flash flood) জল পৌঁছে গেছে বিহারের গণ্ডক নদীতেও। ভেসে এসেছে কাঠ, ঘরের আসবাব, গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে বিশাল আকারের মাছ।
গোপালগঞ্জ, বাল্মীকিনগর ও বাঘাহা এলাকায় মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলছেন। স্থানীয়দের দাবি, ৯০ কিলোগ্রাম থেকে দেড় কুইন্টাল ওজনের মাছও ধরা পড়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লেও, স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এইসব সম্পদ আনন্দের নয়, এ যেন পাহাড় থেকে ভেসে আসা এক ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের নীরব সাক্ষী।
নেপালের পাহাড় আজও শোকস্তব্ধ। কোথাও মা সন্তানের অপেক্ষায়, কোথাও সন্তান বাবার খোঁজে। আর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে একটাই প্রার্থনা করছেন, হয়তো এখনও কোথাও কেউ জীবিত আছেন।


