Aaj India Desk,কাঠমান্ডু: এক সপ্তাহ আগে যে ভয়াবহ হড়পা বান নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকাকে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। বরং প্রতিদিনই বাড়ছে বিপর্যয়ের ভয়াবহতা। এখনও পর্যন্ত সরকারি হিসাব অনুযায়ী , নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯০৩। এখনও ৪,২৪৭ জনের কোনও সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। ফলে উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, মৃত ও নিখোঁজের পরিসংখ্যান আরও বদলাতে পারে।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সূত্রপাত। হিমবাহ ও পাথরের বিশাল ধসের জেরে পাহাড়ি নদীগুলিতে আচমকা বিপুল পরিমাণ জল, বরফ, কাদা ও পাথর নেমে আসে। তার জেরে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর জলস্তর ভয়াবহ ভাবে বেড়ে গিয়ে নদীর দুপাশের জনবসতি, রাস্তা, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ভেসে যায়। বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক বিশ্লেষণেও বরফ-পাথরের বিশাল ধসকেই এই বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে উদ্ধারকাজে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্তূপ এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে বহু জায়গায় পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলিতে বহু মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দল ও নিরাপত্তাকর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন।
এর মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিভিন্ন নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে দুর্গত এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, নতুন করে জল বাড়লে ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
নেপালের পাশাপাশি তিব্বতেও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চিনের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন এখনও নিখোঁজ। ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা ৯১৯-এ পৌঁছেছে।
একদিকে হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষকে খুঁজে বের করার মরিয়া চেষ্টা, অন্যদিকে ফের নদীর জল বাড়ার আশঙ্কা সব মিলিয়ে নেপালে এখনও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি। উদ্ধারকারীদের কাছে এখন প্রতিটি ঘণ্টাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


