30 C
Kolkata
Sunday, August 30, 2026
spot_img

বন্যার বিভীষিকায় লাশের স্তূপ, বাতাসে পচনের দুর্গন্ধ! নেপালে পরিচয়হীন দেহের শেষ ঠিকানা…

কাঠমান্ডু: বুধবারের সেই হড়পা বান (Nepal Flash flood) যেন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে দিয়েছে নেপালের মানচিত্র। নদীর উন্মত্ত স্রোতে ভেসে গেছে একের পর এক গ্রাম, জনপদ, ঘরবাড়ি! আর তার সঙ্গে হারিয়ে গেছে অসংখ্য মানুষের জীবন ও পরিচয়।

সরকারি হিসাবে এখনও পর্যন্ত ৬৭৫টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ভারতের সীমান্তবর্তী চিতওয়ান জেলায়, যেখানে একাই উদ্ধার হয়েছে ২৩৩টি মৃতদেহ। কিন্তু সংখ্যার চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর সেই দৃশ্য! হাসপাতালের মর্গে আর জায়গা নেই। পর্যাপ্ত শীতলীকরণ ব্যবস্থা না থাকায় বহু দেহে পচন ধরেছে, ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। সংক্রমণের আশঙ্কায় প্রশাসন শনিবার থেকে পরিচয়হীন দেহগুলিকে দাফন করা শুরু করেছে।

পরিচয়হীনদের জন্য শেষ আশ্রয়…

কবর দেওয়ার আগে প্রতিটি দেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে একটি অনন্য শনাক্তকরণ নম্বর, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বজন ডিএনএ মিলিয়ে নিজের প্রিয় মানুষটিকে ফিরে পেতে পারেন।

প্রতিটি কবর প্রায় ১.৫ মিটার গভীর, আর কবরগুলোর মাঝে রাখা হচ্ছে ৪০ সেন্টিমিটার ফাঁক। যাতে প্রয়োজনে পরে নির্দিষ্ট দেহটি সহজে তোলা সম্ভব হয়। এই নিখুঁত ব্যবস্থার আড়ালেও লুকিয়ে আছে এক অসহনীয় সত্য, বহু মানুষ এখনও শুধু একটি নামের অপেক্ষায়।

ভারতীয়দের খোঁজে অবিরাম তৎপরতা

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, বিপর্যয়ের (Nepal Flash flood) তিন দিন পরেও ২৭৫ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। ইতিমধ্যে ১০৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ৫০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে, তিব্বত সীমান্ত দিয়ে চিন থেকে নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন ৫৯৮ জন ভারতীয়। তবে এখনও প্রায় ৯০০ জন ভারতীয় চিনের দিকে আটকে রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বর্তমানে নেপালের সবচেয়ে বড় সংকট শুধু বন্যা (Nepal Flash flood) নয়, এটি হাজারো পরিবারের অপেক্ষা, অচেনা দেহের পরিচয় ফিরে পাওয়ার লড়াই, আর এমন এক শোক, যার শেষ কোথায় কেউ জানে না।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন