কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ক্যাম্পাসের দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিটি ঘিরে ব্যাপক প্রশাসনিক তৎপরতা! রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে ‘দেশবিরোধী’ কার্যকলাপের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স বার্তা দেওয়ার পরই দেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসেও আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা হল শুভেন্দু-নীতি!
সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ক্যাম্পাসে, বিশেষ করে কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল সংলগ্ন এলাকায় কিছু দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেগুলির বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রশাসনের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, ওই দেওয়াল লিখন বা ছবির মধ্যে আপত্তিকর, হিংসাত্মক কিংবা ‘দেশবিরোধী’ বার্তা রয়েছে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই নির্দেশ দেওয়া হয়, প্রথমে সংশ্লিষ্ট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিটির অস্তিত্ব এবং বিষয়বস্তু যাচাই করতে হবে। অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে সেগুলি দ্রুত মুছে ফেলার পাশাপাশি এর সঙ্গে কারা যুক্ত, তা চিহ্নিত করার কথাও বলা হয়েছে।
নির্দেশে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, তদন্তে যদি ‘দেশবিরোধী’ বার্তা কিংবা বিকৃত ও আপত্তিকর ছবি থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে শুধুমাত্র সেগুলি মুছে ফেললেই বিষয়টি শেষ হবে না। দায়ীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক এবং আইনি পদক্ষেপ করার কথাও বলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল পরিবেশ যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ, শৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এরপরই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ক্যাম্পাসে বিতর্কিত দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিটি মুছে ফেলার কাজ শুরু হয় বলে খবর। শনিবার রাত থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ক্যাম্পাসের দেওয়ালে ইতিমধ্যেই সাদা রঙের প্রলেপ পড়তে দেখা গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই এই কাজ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে অবশ্য এখনও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। দেওয়ালগুলিতে ঠিক কী ধরনের বার্তা বা ছবি ছিল, সেগুলি সত্যিই ‘দেশবিরোধী’ বা আপত্তিকর কি না, এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় বাম ছাত্র সংগঠনগুলির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে তাই এখন নজর শুধু দেওয়াল থেকে মুছে যাওয়া লেখার দিকে নয়, বরং তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকেও। অভিযোগের সত্যতা কতটা, দায়ী হিসেবে কাদের চিহ্নিত করা হয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আদৌ কী পদক্ষেপ করা হয়? সেই উত্তরেই নির্ভর করছে যাদবপুরের (Jadavpur University) এই দেওয়াল-বিতর্কের পরবর্তী অধ্যায়।
অর্থাৎ, আপাতত দেওয়ালে পড়েছে সাদা রং। কিন্তু বিতর্কের ছবিটা এখনও পুরোপুরি সাদা হয়নি! তদন্তের রিপোর্টেই স্পষ্ট হতে পারে, এই দেওয়াল লিখনের নেপথ্যে আসলে কী ছিল।


