Aaj lndia Desk, মণিপুর: মণিপুরে ফের বড়সড় হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল। কাংপোকপি জেলার ইম্ফল-তামেংলং বা IT Road-এ সশস্ত্র হামলায় মৃত্যু হয়েছে চার নাগা নাগরিকের। মৃতদের মধ্যে স্থানীয় একটি স্কুলের প্রিন্সিপালও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই হামলা চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় আরও এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হামলার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ মাকুই আশাং এবং থানাম্বা নাগার মাঝামাঝি এলাকায় হামলাটি ঘটে। এলাকাটি যথেষ্ট স্পর্শকাতর। নাগা অধ্যুষিত এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে IT Road অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই রাস্তাতেই একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে আচমকা গুলি চালানো হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।
হামলায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের নাম প্রকাশ করেছে ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল (UNC)। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন তাদসংবাউ রিংকংমাই। তিনি একটি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রিন্সিপাল ছিলেন। এছাড়াও মারা গিয়েছেন উইসোবাউ চেরেনামাই, মারিয়াকদিবাউ এবং অনিল উইজুনামাই। গাইকমং রিংকংমাই নামে আরও এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হামলার পর জাপৌ এম কে নামে এক ব্যক্তির খোঁজ মিলছিল না বলেও প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
এই ঘটনার পর সরাসরি কুকি-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র সংগঠনগুলির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে UNC। সংগঠনের দাবি, কুকি ন্যাশনাল ফ্রন্ট (KNF) এবং কুকি রেভলিউশনারি আর্মি (KRA)-র সশস্ত্র সদস্যরা হামলার পিছনে থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগের এখনও কোনও স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, কুকি-জো কাউন্সিলের এক প্রতিনিধি হামলার সঙ্গে তাঁদের সংগঠন বা সম্প্রদায়ের যোগ থাকার অভিযোগ খারিজ করেছেন। ফলে হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, তা নিয়েই এখন তদন্ত চলছে।
এদিকে চার নাগার মৃত্যুর প্রতিবাদে ক্ষোভ ছড়িয়েছে নাগা অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে। সেনাপতি জেলায় দোকানপাট ও বাজার বন্ধ রাখার ডাক দিয়েছে নাগা সংগঠনগুলি। ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।
মণিপুরে গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় অশান্তির খবর সামনে এসেছে। সেনাপতি ও কাংপোকপি সংলগ্ন এলাকাতেও আগে বাড়িঘরে আগুন লাগানো এবং গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যেই IT Road-এর এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নতুন করে কোনও সংঘর্ষ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী।


