Aaj lndia Desk,কাঠমান্ডু : ফের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ছবি নেপালে। রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ ধসের পর আচমকা নেমে আসা প্রবল জলস্রোতে কার্যত বিপর্যস্ত জনজীবন। বিপর্যয়ের জেরে লাফিয়ে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৬২৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন ২,৪৭৮ জন।
প্রশাসনের তথ্য বলছে, নিখোঁজদের মধ্যে নেপালের বাসিন্দা ১,৯২৪ জন। তিব্বতের অংশে আরও ৫৫৪ জনের কোনও সন্ধান নেই। দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডে ধস এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার অভিযানে তৈরি হচ্ছে একাধিক সমস্যা। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
বিপর্যয়ের অভিঘাতে নেপালের পরিকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলের তোড়ে একাধিক রাস্তা ও সেতু ভেঙে পড়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে জনবসতি এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ। এর মধ্যেই ভোটেকোশি ও ত্রিশূলি নদীর জলস্তর নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। নদীর আশপাশে বসবাসকারী মানুষজনকে পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত নিরাপদ এলাকায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় বিদেশি নাগরিকদের নিখোঁজের সংখ্যাও যথেষ্ট উদ্বেগের। নেপালে পর্যটক ও বিদেশি কর্মী মিলিয়ে ৫১৭ জন বিদেশি নিখোঁজ বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তিব্বত অংশে আরও ২৬০ জন বিদেশির খোঁজ নেই। যদিও নেপাল পর্যটন পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, বিপর্যস্ত এলাকা থেকে ১২১ জন বিদেশি পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
বিপর্যয়ের প্রথম পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছিল নেপাল সরকার। কিন্তু পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং উদ্ধার অভিযানের জটিলতা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে এখন ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং ডিএনএ-র মাধ্যমে মৃতদের শনাক্তকরণে তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।
নেপাল সেনা ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় যৌথভাবে তল্লাশি শুরু করেছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা বিপুল হওয়ায় উদ্ধার অভিযান কত দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।


