Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: হিমবাহ ধস থেকে তৈরি হওয়া ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে নেপাল (Nepal Flash Flood) ও চিন সীমান্তে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। শুক্রবার পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫২ হয়েছে। নেপাল প্রশাসনের হিসাবে, সে দেশে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিনের তরফেও সীমান্তবর্তী এলাকায় আরও পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
মৃত্যুর পাশাপাশি নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। নেপালেই এখনও ৯৭৭ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এই ঘটনাকেই নেপালের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, তিব্বত সীমান্তের কাছে একটি বড় হিমবাহ আচমকা ধসে পড়ে। তার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বরফ, জল ও কাদা নেমে আসে পাহাড়ি এলাকা দিয়ে। সেই প্রবল স্রোতই বিস্তীর্ণ এলাকায় হড়পা বানের পরিস্থিতি তৈরি করে। বহু রাস্তা, বসতি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উদ্ধারকাজে নেপালে ১৪ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মীকে নামানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৭৪ হাজার ২৪ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তিব্বত এলাকায় জমে থাকা কাদার বাঁধ ভেঙে ফের জল নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই শুক্রবার নেপাল পুলিশ নতুন করে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের নিরাপদ এবং উঁচু এলাকায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নেপালে আটকে থাকা ভারতীয়দের (Indian Nationals) উদ্ধারের কাজও জোরকদমে চলছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, কাঠমান্ডু থেকে আগের দিন ২১ জন ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করা আরও ৬৩ জন ভারতীয় শ্রমিককেও উদ্ধার করা হয়েছে।এছাড়া চিন সীমান্তের কাছে আটকে পড়া আরও ৯৬ জন ভারতীয় স্থলপথে নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করতে পেরেছেন। তবে এখনও অনেক ভারতীয় পর্যটক, শ্রমিক এবং কৈলাস-মানসরোবর যাত্রীরা বিভিন্ন জায়গায় আটকে রয়েছেন।
বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালের দুর্গম ও বন্যাকবলিত এলাকায় এখনও প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি প্রায় ১০০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাঁদের অবস্থান জানার জন্য কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস নেপাল সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং পর্যটন সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কাজ করছে।
অন্যদিকে, এই ভয়াবহ বন্যার প্রভাব পড়েছে নেপালের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেও। অন্তত ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর ফলে ভারত ও বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রফতানিতেও বড় ধাক্কা লেগেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২৬ অগস্ট হড়পা বান আছড়ে পড়ার সময় সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে ভারত নেপাল থেকে প্রায় ৯৬৩.৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিচ্ছিল। কিন্তু একের পর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই সরবরাহ অনেকটাই কমে গিয়েছে। সাধারণ সময়ে ভারত প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াটে। ফলে নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব শুধু সেদেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তার আঁচ পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলির বিদ্যুৎ বাণিজ্যেও।


