কলকাতা: ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দেমাতরম্’ কর্মসূচির মঞ্চে দাঁড়িয়ে যাদবপুরের বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি, ‘আজাদি’ স্লোগান এবং মাদক ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বক্তব্য রাখার সময় তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অবদানের কথা উল্লেখ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন যাদবপুরের ছাত্ররা ‘কিসের আজাদি’ চান। সেই প্রসঙ্গেই তিনি কিউবান বিপ্লবের অন্যতম মুখ চে গুয়েভারাকে (Che Guevara) উদ্দেশ্য করে ‘চে গুয়েভারা না কে একটা আছে’ বলে মন্তব্য করেন।
শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চর্চা শুরু হয়েছে। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির আদর্শ এবং যাদবপুরের আন্দোলন নিয়ে বিজেপি ও বিরোধী দলগুলির অবস্থান ফের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
চে গুয়েভারা: রাজনৈতিক প্রভাব ও বিতর্ক
আর্জেন্টিনায় জন্মগ্রহণকারী চিকিৎসক আর্নেস্তো ‘চে’ গুয়েভারা (Che Guevara) ১৯৫০-এর দশকে ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে কিউবার বাতিস্তা সরকার উৎখাতের সশস্ত্র বিপ্লবে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। বিপ্লবের পর তিনি কিউবার নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই, অর্থনৈতিক সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সমর্থকদের কাছে চে গুয়েভারা (Che Guevara) বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের এক আন্তর্জাতিক প্রতীক। অন্যদিকে, সমালোচকরা তাঁর সশস্ত্র বিপ্লবের পথ, কিউবায় রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে তাঁর ভূমিকার কারণে তাঁকে রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেন। ১৯৬৭ সালে বলিভিয়ায় তাঁর মৃত্যুর পরও আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ছাত্র রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ও ভূমিকা নিয়ে দুই ধরনের মতামতই বিদ্যমান।


