Aaj India Desk, কলকাতা : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মন্তব্য ঘিরে নতুন করে শুরু হলো বিতর্ক। শুক্রবার এইট বি বাসস্ট্যান্ডে ‘বন্দে মাতরম’ কর্মসূচির মঞ্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক স্লোগান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ফ্রি প্যালেস্টাইন কেন, লিখুন ফ্রি পিওকে, লিখুন পাক অধিকৃত কাশ্মীর চাই।”
সংঘর্ষের পর আরও চড়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ
সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি, এসএফআই, জুটা এবং ফেটসুর মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠন ABVP এর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, মুক্তচিন্তা ও প্রশ্ন তোলার স্বাধীনতার আড়ালে যাদবপুরে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়। সংঘর্ষের পর সেই অভিযোগই ফের সামনে এসেছে।
রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠা করার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) যাদবপুরে ‘রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠা’র কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ও বাইরে রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং সবাইকে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণার পর শুক্রবার যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডে ১০ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়।
কর্মসূচির পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক স্লোগান নিয়ে সরাসরি বাম-অতি বাম শিবিরকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘‘ফ্রি প্যালেস্টাইন কেন, লিখুন ফ্রি পিওকে, লিখুন পাক অধিকৃত কাশ্মীর চাই।’’ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাজনৈতিক স্লোগানের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। সেই স্লোগানের সঙ্গে জাতীয়তাবাদ ও রাষ্ট্রীয় অবস্থানের সম্পর্কও তুলে ধরেন তিনি। এরপরেই তিনি বলেন, “চে গুয়েভারার গেঞ্জি পরা কিছু গোষ্ঠী রানাঘাটের পড়ুয়ার মতো পরিণতি করার হুমকি দিয়ে যাদবপুরের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের জোর করে মিছিলে নিয়ে যায়। তৃণমূলের ২৬ হাজার চাকরি চুরি কিংবা পিএসসি-এসএসসি দুর্নীতি নিয়ে তাদের মুখে স্লোগান নেই, তাদের মুখে খালি ‘আজাদি’ স্লোগান!’
তবে শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পরই উঠছে প্রশ্ন, ক্যাম্পাসে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা বা বলা মানেই কি রাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় ক্যাম্পাসে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের স্লোগান বা প্রতিবাদ নতুন ঘটনা নয়। প্যালেস্টাইন ইস্যু নিয়েও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে একটি রাজনৈতিক স্লোগানকে সরাসরি ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ রাজনীতির সঙ্গে এক করে দেখানোর ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়েছে।


