Aaj lndia Desk,কাঠমান্ডু : প্রকৃতির ভয়াবহ রূপের সাক্ষী নেপাল-তিব্বত সীমান্ত (Tibet Nepal Border)। প্রবল জলস্রোত, পাহাড়ি ধস এবং ধ্বংসস্তূপের জেরে একাধিক এলাকায় জনজীবন কার্যত থমকে গিয়েছে। শুক্রবার সকালে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিপর্যয়ের জেরে এখনও পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ মানুষের সংখ্যাও ৭৫০ পেরিয়েছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে নিখোঁজের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ১,৪০০-র বেশি মানুষের কোনও সন্ধান নেই।
এই ঘটনায় ভারতীয় নাগরিকদের নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের হিসাবে প্রায় ২৯০ জন ভারতীয়র সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁদের মধ্যে পর্যটক, বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত ব্যক্তি এবং কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রীরাও রয়েছেন।
উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যে বেশ কিছু ভারতীয়কে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করতে যাওয়া ৬৩ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর ২১ জন নাগরিক-সহ মোট ৮৪ জন ভারতীয়কে বিপদসংকুল এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। রাসুয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকার খবর রয়েছে।
দুর্গত এলাকায় পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা। বহু রাস্তা ও সেতু ভেঙে যাওয়ায় স্থলপথে উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই হেলিকপ্টারের সাহায্যে দুর্গম এলাকায় পৌঁছচ্ছে নেপালি সেনা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী। আটকে পড়া মানুষদের কাছে প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধও পাঠানো হচ্ছে। ধ্বংসাবশেষের নিচে কাউকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায় কি না, তার জন্য ভারী যন্ত্র দিয়ে মাটি সরানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুরের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
ভারতীয়দের উদ্ধারে কাঠমান্ডুর দূতাবাসও সক্রিয় রয়েছে। নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি তিব্বতে আটকে থাকা প্রায় ২০০ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রীকে ফিরিয়ে আনতে চিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্যে আরও একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ধসের কারণে ভোটকোশি নদীর পথে মাটি-পলি জমে জল আটকে কৃত্রিম জলাধারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জলস্তর দ্রুত বাড়লে সেটি ভেঙে গিয়ে নতুন করে প্রবল জলস্রোত নামতে পারে। সীমান্তের চিনা অংশেও একটি জলাধার নিয়ে সতর্কতা রয়েছে। সেখানে প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকেই পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হতে পারে।


