কাঠমান্ডু/নয়াদিল্লি: কোশীর ধ্বংসযজ্ঞের (Nepal Flash flood) রেশ কাটেনি, তার মাঝেই হিমালয়ের বুকে তৈরি হয়েছে এক বিশাল প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হ্রদ (Great Barrier Reef)। নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে চোচেন খোলা ও পুরপু সাংপো নদীর সঙ্গমস্থলে গড়ে ওঠা এই হ্রদকে ঘিরে এখন সতর্ক বিজ্ঞানী থেকে চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক। কারণ একটাই, যদি দুর্বল প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে মুহূর্তের মধ্যে নীচের দিকে ধেয়ে যেতে পারে বিপুল জলরাশি ও ধ্বংসাবশেষ।
কেন হঠাৎ এত উদ্বেগ?
চিনা পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হ্রদটিতে (Great Barrier Reef) ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছে। আরও ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমার আশঙ্কা রয়েছে। এই বিশাল জলরাশি আটকে রেখেছে ভূমিধসে তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক বাঁধ! যার স্থায়িত্ব নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, জল কি ধীরে ধীরে উপচে বেরোবে, নাকি এক ঝটকায় ভেঙে পড়বে পুরো বাঁধ?
৭২ ঘণ্টা কেন ‘ক্রিটিক্যাল’?
চিন ওই এলাকায় রিয়েল-টাইম মনিটরিং শুরু করেছে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে ঘোষণা করেছে।
এই সময়ে নজর রাখা হচ্ছে:
- হ্রদের জলস্তর কত দ্রুত বাড়ছে
- প্রাকৃতিক বাঁধে ফাটল বা দুর্বলতার লক্ষণ
- জল উপচে পড়ছে নাকি বাঁধ ভাঙার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে
- সম্ভাব্য বন্যার গতিপথ ও গতি
যদি বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে সেটি GLOF (Glacial Lake Outburst Flood)-এর মতো আচরণ করতে পারে, যেখানে জল শুধু নয়, পাথর, গাছ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষও প্রবল গতিতে নীচের দিকে নেমে আসে।
ভারতের সঙ্গে যোগ কোথায়?
হ্রদটি (Great Barrier Reef) ভারতের ভেতরে নয়, কিন্তু এর নদীপথ ভারতের সঙ্গে যুক্ত। চোচেন খোলা ও পুরপু সাংপোর জল নেপালের নদী ব্যবস্থায় মিশে ত্রিশূলী হয়ে নারায়ণী (গন্ডক) নদীতে প্রবেশ করে। এরপর সেই গন্ডকই বিহার হয়ে উত্তরপ্রদেশে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ আতঙ্কের কারণ ভৌগোলিক দূরত্ব নয়, নদীর সংযোগ।
কোশীর পর নতুন পরীক্ষা
সাম্প্রতিক কোশী বন্যায় রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বহু সেতু, রাস্তা ও জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার পর পাহাড়ি নদীগুলির উপর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই প্রতিবন্ধক হ্রদ (Great Barrier Reef) সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তাহলে কি ভারতে বড় বন্যা আসছে?
না, এমন দাবি করার কোনও ভিত্তি নেই। বর্তমানে এটি একটি সতর্কতামূলক পরিস্থিতি। বিশেষজ্ঞদের নজর মূলত এই বিষয়গুলিতে—
- বাঁধ স্থিতিশীল থাকে কি না
- জল নিয়ন্ত্রিতভাবে বেরোয় কি না
- হঠাৎ ভেঙে প্রবল ঢেউ তৈরি হয় কি না
বিহার ও উত্তরপ্রদেশের গন্ডক অববাহিকার নদীতীরবর্তী এলাকায় সতর্ক নজরদারি জরুরি হলেও, এই মুহূর্তে বড় বন্যা নিশ্চিত, এমন কোনও সরকারি ঘোষণা নেই। আগামী ৭২ ঘণ্টাই ঠিক করে দিতে পারে, হিমালয়ের এই ‘জলবোমা’ নিঃশব্দেই স্থিতিশীল হবে, নাকি নামাবে নতুন বিপর্যয়ের আশঙ্কা।


