Aaj lndia Desk,দক্ষিণ ২৪ পরগণা: রাখিপূর্ণিমার উৎসবের দিনে ভাই-বোনের সম্পর্কের এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হল সোনারপুর। তবে সেই মুহূর্তের নেপথ্যে ছিল গভীর শোক। পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো দাদার নিথর হাতে শেষবার রাখি পরিয়ে দিলেন বোন। চোখের জলে শেষ বিদায় জানালেন প্রিয় ভাইকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, বারুইপুর থেকে যাদবপুরের দিকে যাচ্ছিল একটি গাড়ি। চৌহাটি সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছনোর পর কোনও কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছে প্রবল জোরে ধাক্কা লাগে। দুর্ঘটনার গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাড়ির ভিতরে থাকা পাঁচজনের মধ্যে দু’জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
মৃতদের পরিচয় সাগ্নিক সেন এবং শৌনক ভট্টাচার্য । দু’জনই যাদবপুর এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় অন্য তিন যাত্রীও গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আহত তিনজন চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনার পর ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় সাগ্নিকের পরিবারের সদস্যরা সেখানে পৌঁছন। তখনই তৈরি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। রাখিপূর্ণিমার দিনে দাদার হাতে রাখি পরানোর কথা ছিল। কিন্তু উৎসবের সেই রাখিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল বিদায়ের প্রতীক। সাগ্নিকের বোন তাঁর নিথর হাতে শেষবারের মতো রাখি পরিয়ে দেন। দাদাকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলে থাকা মানুষজনও সেই দৃশ্য দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। কীভাবে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, গাড়ির গতি কত ছিল এবং চালকের কোনও গাফিলতি ছিল কি না সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
শহর ও শহরতলিতে পথ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ফের সামনে এল এই ঘটনা। গত ২৫ তারিখ কেষ্টপুরে অ্যাপ-নির্ভর বাইক এবং একটি লরির সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো এবং অসতর্কতার বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রচার চালালেও দুর্ঘটনার ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। সোনারপুরের এই ঘটনাও ফের মনে করিয়ে দিল, রাস্তায় এক মুহূর্তের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মূল্য কখনও কখনও জীবন দিয়ে চোকাতে হয়।


