Aaj lndia Desk, কাঠমান্ডু:প্রকৃতির একের পর এক ধাক্কায় কার্যত বিপর্যস্ত নেপাল। ভয়াবহ বন্যা, পাহাড়ি ধস এবং হিমবাহ ভেঙে জল নেমে আসার মতো ঘটনায় ইতিমধ্যেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। এর মধ্যেই তিব্বত-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি কম্পন নথিভুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
রাতের দিকে প্রথম কম্পনটি ধরা পড়ে তিব্বত এলাকায়। কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৯। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হওয়ায় এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কম্পনের সময় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অনেকে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন।
এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই ফের কম্পন। প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে নেপালের পার্বত্য এলাকায় ৩.২ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। দ্বিতীয় কম্পনটির গভীরতাও ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। মাত্রা কম হলেও পরপর এমন ঘটনা বন্যা ও ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বর্তমানে নেপালের একাধিক নদীতে জলস্রোত অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশেষ করে চিন সীমান্তের কাছে ভোতে কোশী এবং ত্রিশূলী নদীকে ঘিরে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি এলাকার দুর্বল মাটির কারণে বিভিন্ন জায়গায় ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। কোথাও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ফলে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনোও প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, হিমালয় একটি অত্যন্ত সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক অঞ্চল। সেখানে ভূমিকম্পের পাশাপাশি ভূমিধস ও হিমবাহ-সংক্রান্ত বিপর্যয়ের ঝুঁকি রয়েছে। প্রবল বৃষ্টির পরে পাহাড়ের ঢাল যখন নরম হয়ে যায়, তখন কম্পনের মতো অতিরিক্ত চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তবে পরপর দুটি কম্পন ঘটেছে বলেই বড় ভূমিকম্প আসতে চলেছে এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছনোর কারণ নেই। ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নির্ভুলভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে সতর্কতা বজায় রাখা, নদীর জলস্তর পর্যবেক্ষণ এবং পাহাড়ি ঢালের পরিস্থিতির উপর নজর রাখাই সবচেয়ে জরুরি।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নতুন এই কম্পন তাই নেপালের মানুষের আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে। হিমালয়ের এই অঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনও সময় লাগবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


