Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: নেপালে ভয়াবহ বন্যার (Nepal Flash Flood) পর পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে ভারত (India)। এখনও পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৭৫০-র বেশি মানুষ। এরই মধ্যে নেপালের পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা বিপুল জলের প্রভাবে ভারতের বিহার (Bihar) ও উত্তরপ্রদেশের (Uttarprodesh) বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যার (Flood) আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টাকে তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নেপালের পাহাড়ি এলাকায় জমে থাকা বন্যার জল ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামছে। সেই জল বিভিন্ন নদীর মাধ্যমে ভারতের দিকে আসতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ভারত ও বাংলাদেশের দিকে প্রবাহিত নদীগুলির জলস্তরেও।
সবচেয়ে বেশি নজর রাখা হচ্ছে গণ্ডক-নারায়ণী নদী ব্যবস্থার দিকে। নেপালে কোশী নদী গিয়ে ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে মিশেছে। এরপর ত্রিশূলী ও কালী গণ্ডকীর মিলনস্থল দেবঘাটের কাছে তৈরি হয়েছে নারায়ণী নদী। ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করার পর এই নদীই গণ্ডক নামে পরিচিত। ফলে নেপালের নদীগুলিতে জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে তার প্রভাব ভারতের নিচু এলাকাগুলিতেও পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিহারের ৯টি জেলাকে সতর্ক করা হয়েছে। পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, মুজফ্ফরপুর, সিওয়ান, সারণ, শেওহর, সীতামঢ়ী এবং বৈশালী রয়েছে সেই তালিকায়। পশ্চিম চম্পারণে ইতিমধ্যেই গণ্ডক নদীর জল দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গণ্ডক ব্যারেজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। নদীর কাছাকাছি থাকা মানুষদেরও নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে সাতটি জেলায়। মহারাজগঞ্জ, কুশীনগর, পিলিভিট, শ্রাবস্তী, বলরামপুর, সিদ্ধার্থনগর এবং গোরক্ষপুরের প্রশাসনকে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগরে গণ্ডক এবং নারায়ণী নদীর জলস্তরের উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ আগামী ২৪ ঘণ্টা?
নেপালের পাহাড়ে হঠাৎ নদীর জল বেড়ে গেলেই সেই জল সঙ্গে সঙ্গে ভারতের সমতল এলাকায় পৌঁছয় না। পাহাড় থেকে নেমে আসা জল ধীরে ধীরে নদীর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা ধরে নিচের দিকে এগোয়। তাই আগামী কয়েক ঘণ্টায় নদীর জল কতটা বাড়ছে, কী গতিতে জল নামছে এবং ব্যারেজ বা বাঁধগুলি সেই জল কতটা সামলাতে পারছে, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করবে পরিস্থিতি।
এর পাশাপাশি আরও একটি বিষয় নিয়ে চিন্তা রয়েছে। নেপালের রসুয়া এলাকায় বন্যার পিছনে পাহাড়ে বরফ-পাথরের ধস কিংবা নদীর পথে কোনও প্রাকৃতিক বাধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও বিপুল পরিমাণ জল আটকে থাকলে সেই বাধা হঠাৎ ভেঙে গিয়ে ফের বড় জলস্রোত নেমে আসতে পারে। তাই ইতিমধ্যে নেমে আসা জলের পাশাপাশি নতুন করে কোথাও জল জমছে বা জলপ্রবাহ তৈরি হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
নেপালে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানও জোরকদমে চলছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রায় ২,০০০ সেনাকে কাজে নামানো হয়েছে। রসুয়া ও নুওয়াকোটের মতো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে স্থলপথের পাশাপাশি আকাশপথেও উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
উত্তরাখণ্ডেও সারদা নদী নিয়ে সতর্কতা
নেপালের পরিস্থিতির প্রভাবের আশঙ্কায় উত্তরাখণ্ডের চম্পাবতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। টনকপুরের এসডিআরএফ পোস্টে হাই অ্যালার্ট জারি রয়েছে। সারদা নদীর ঘাট, ব্যারেজ এবং নদী সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলিতে নজরদারি চালাচ্ছে বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক এবং মৎস্যজীবীদের নদীর কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতির উপর কেন্দ্রও নজর রাখছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজ নিচ্ছেন। শাহ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরি এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে কথা বলেছেন। সম্ভাব্য জলস্তর বৃদ্ধি এবং তার মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে এখন শুধু নেপালের বন্যা পরিস্থিতিই নয়, উজান থেকে কতটা জল ভারতের দিকে আসছে, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আগামী ২৪ ঘণ্টায় গণ্ডক, নারায়ণী এবং সারদা নদীর জলস্তর কীভাবে বদলায়, তার উপর পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে।


