Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল (TMC) ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদকে নোটিস পাঠাল লোকসভার স্পিকারের দফতর। মঙ্গলবার দুপুর ৩টের পর তাঁদের দিল্লির ঠিকানায়, সরকারি ইমেল এবং সাংসদ পোর্টালের মাধ্যমে এই নোটিস পাঠানো হয়। নোটিসে আগামী সাত দিনের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে।
এই ২০ সাংসদের সাংসদপদ খারিজের দাবি জানিয়ে গত ১৯ জুন লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এবার সাংসদদের বক্তব্য জানতে চাইল স্পিকার দফতর।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ২০ সাংসদের নতুন দলকে কটাক্ষ করে বলেন, “এই ধরনের আঞ্চলিক পার্টি। পার্টির জন্মই হয়নি! কেউ জামা পরে নিয়েছেন দলের। কেউ নামই জানত না। এভাবে রাজনীতি হয় না।”
এরপরই তিনি আরও বলেন, “সাময়িকভাবে মুখ রক্ষার জন্য তাঁরা হয়তো একটা আশ্রয় নিয়েছেন। এই রাজনীতি থেকে দেশের কোনও লাভ হবে না। ব্যক্তিগত স্বার্থে এই রকম পার্টি কেউ তৈরি করছেন। আর অন্য কেউ ছাতার তলায় দাঁড়াচ্ছেন। আমার মনে হয় না, এটি দেশের রাজনীতির কোনও লাভ হবে।”
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে ২০ সাংসদকে নোটিস জারি করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চও। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং ভি মোহনা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে অযোগ্যতা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য লোকসভার স্পিকারকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় লোকসভার স্পিকার ও হাউসের সেক্রেটারি জেনারেলের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, তৃণমূলের আবেদনের ভিত্তিতে সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী ওই ২০ সাংসদকে ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। ফলে সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি এবং স্পিকারের দফতরের নোটিস—দুই ঘটনাকে ঘিরেই এখন ২০ সাংসদের সাংসদপদ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।


