Aaj India Desk, কলকাতা: পার্ক স্ট্রিটে (Park Street) একটি গরিব পরিবারকে পুলিশ দিয়ে সরিয়ে আনা এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করলেন তৃণমূল নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তোলেন তিনি।
পার্ক স্ট্রিটের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে কুণাল বলেন, ওই পরিবারকে পুলিশ দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক। তাঁর অভিযোগ, শনিবার সেখানে গিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) পরিবারটির সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করেছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কুণালের কথায়, কেউ ইচ্ছা করে গরিব হয়ে জন্মায় না। ভোটের আগে গরিব মানুষের সঙ্গে ছবি তোলা হলেও ভোট মিটে গেলে তাঁদের প্রতি কেন এমন আচরণ করা হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন কুণাল। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারটির দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলার পরেই প্রশাসনের তরফে তৎপরতা দেখা যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শনিবারের পর রবিবার ও সোমবার সময় পেয়েও কেন রাজ্য সরকার আগে কোনও ব্যবস্থা নিল না? তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের পরেই কেন পরিবারটিকে পুলিশ দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হল?
কুণাল আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় থাকুন বা না থাকুন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। একইসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পালের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তাঁর দাবি, এই ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে অগ্নিমিত্রা পাল ভুল করেছিলেন।
এরপরই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সরব হন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, সরকারি ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে রাস্তায় বের হতে না দেওয়ার কথা বলা অত্যন্ত আপত্তিকর। তিনি এটিকে ‘নারী বিদ্বেষী’ মন্তব্য বলেও দাবি করেন। তাঁর প্রশ্ন, একজন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে হুমকি দিতে পারেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স নিয়ে মন্তব্যেরও বিরোধিতা করেন কুণাল। তিনি বলেন, বয়সকে সামনে রেখে কোনও রাজনৈতিক নেতাকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া উচিত নয়। বরং বর্তমান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে হাঁটার প্রতিযোগিতা হলে কে বেশি ফিট, তা সবাই দেখতে পাবেন—এমন চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি।
এখানেই থামেননি কুণাল। কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স নিয়ে মন্তব্যের পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে কি না। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে বয়সে বড়। তাই মমতার বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলার পিছনে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আনেন তিনি।


