Aaj India Desk, কলকাতা: জাতীয় শিক্ষানীতি দ্রুত এবং সঠিকভাবে কার্যকর করতে রাজ্যে গঠন করা হল একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স (Task force)। রাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে (Government College and Universities) নতুন শিক্ষানীতির নিয়ম ও কাঠামো ঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, মূলত সেটাই দেখবে এই কমিটি।
এই টাস্ক ফোর্সের অ্যাডভাইজার হিসেবে থাকছেন ইউজিসি (UGC)-র চেয়ারম্যান এম জগদীশ কুমার । কমিটিতে রাখা হয়েছে শিক্ষাবিদ অনিল সহশ্র বুদ্ধেকেও। রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি যাতে গুরুত্ব পায়, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিতে রয়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ এবং ম্যাকাউটের উপাচার্য তাপস চক্রবর্তী। শুধু শিক্ষাক্ষেত্র নয়, পড়াশোনা শেষ করে ছাত্রছাত্রীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং শিল্পক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও যাতে শিক্ষানীতির সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তার জন্য শিল্পমহলের প্রতিনিধিদেরও কমিটিতে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পপতি সজ্জন ভজনকা।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের বেশ কয়েকজন প্রবীণ আধিকারিকও এই টাস্ক ফোর্সের সদস্য হিসেবে থাকবেন। ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাঠ্যক্রমকে সময়োপযোগী করা, গবেষণার পরিসর বাড়ানো এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য হল সময়ের সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রয়োজনভিত্তিক করে তোলা। ১৯৮৬ সালের শিক্ষানীতির পরিবর্তে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করা হয়েছে। এর অন্যতম বড় পরিবর্তন হল পুরনো ১০+২ কাঠামোর বদলে ৫+৩+৩+৪ পদ্ধতি চালু করা।
এই ব্যবস্থায় ৩ থেকে ৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির পর্যায় ধরা হয়েছে। এরপর ৮ থেকে ১১ বছর বয়সে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা। এই পর্যায়ে পড়া ও গণিতের প্রাথমিক ভিত্তি আরও শক্ত করার উপর জোর দেওয়া হয়। ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়াশোনা। এই পর্যায়ে বিজ্ঞান, কলা এবং কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে পড়ুয়াদের পরিচয় করানো হয়। আর ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনায় পড়ুয়াদের নিজেদের পছন্দের বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগ আরও বাড়ানো হয়েছে।


