Aaj India Desk, কলকাতা : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে ABVP এবং দক্ষিণ কলকাতার বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন বাম নেত্রী দীপ্সিতা ধর (Dipsita Dhar)। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পড়ুয়াদের উপর পরিকল্পিত হামলার নেপথ্যে বিজেপি বিধায়কের উস্কানিমূলক ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, বিজেপিকে ভোট দিয়ে সাধারণ মানুষ কার্যত ‘বিপদ ডেকে এনেছেন’।
‘GB মিটিং বেআইনি’ মন্তব্য নিয়ে আপত্তি
শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের একের পর এক মন্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক’ বলে দাবি করেন দীপ্সিতা (Dipsita Dhar)। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সভা বা GB Meeting-কে ‘বেআইনি’ বলার মন্তব্যের বিরোধিতা করেন তিনি।দীপ্সিতার বক্তব্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ পড়ুয়া হিসেবে GB Meeting ডাকার অধিকার রয়েছে। সেই সভায় কে যাবেন বা যাবেন না, তা ব্যক্তিগত বিষয়। তাঁর অভিযোগ, শুরু থেকেই ABVP ওই সভা বানচাল করার চেষ্টা করেছে।
‘ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে দূর সম্পর্কও নেই’
শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের ছাত্র রাজনীতি নিয়ে মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন দীপ্সিতা ধর (Dipsita Dhar)। তাঁর দাবি, বিধায়কের ‘ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে দূর সম্পর্কও নেই’, তাই GB Meeting-এর মতো বিষয় সম্পর্কে তাঁর ধারণা স্পষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতদের উপস্থিতি এবং পড়ুয়াদের উপর হামলার অভিযোগও তোলেন তিনি। দীপ্সিতার দাবি, অস্ত্র দেখিয়ে পড়ুয়াদের ভয় দেখানো এবং অরবিন্দ ভবনে আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলির সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
‘দিমাগি নকশাল’ তকমা নিয়েও আক্রমণ
বিজেপির বিরুদ্ধে মোদীর ‘দিমাগি নকশাল’-এর মতো তকমা ব্যবহার করা নিয়েও আপত্তি করেন দীপ্সিতা। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা প্রশ্ন করেন এবং যুক্তি দিয়ে ভাবেন, তাঁদেরই এই ধরনের নামে চিহ্নিত করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি ক্ষুদিরাম বসু, মাস্টারদা সূর্য সেন, গণেশ ঘোষ এবং প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নাম উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বাংলার মাটিতে সাভারকরের জায়গা অতীতেও ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে বারবার রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে আনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দীপ্সিতা বলেন, এখানকার পড়ুয়ারা এখনও যুক্তি, বিতর্ক এবং প্রশ্নের সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সেই সংস্কৃতির সঙ্গে সহমত নয় বলেই প্রশ্নের মুখে আগুন ও হিংসার পথ বেছে নিচ্ছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অশান্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। দীপ্সিতার বক্তব্য সেই বিতর্ক আরোও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


