32 C
Kolkata
Thursday, August 20, 2026
spot_img

স্বাধীনতা সংগ্রামে তিতুমীরের চেয়ে ‘শ্যামাপ্রসাদের অবদান বেশি’? ‘বাঁশের কেল্লার’ সাক্ষ্য মুছে ‘শ্যামাপ্রসাদ ভবন’!

কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ ভবনের ‘তিতুমীর সভাকক্ষ’ (Titumir auditorium) রাতারাতি হয়ে গেল ‘শ্যামাপ্রসাদ ভবন’। শুধু নাম বদল নয়! দেওয়াল থেকে নামানো হয়েছে ব্রিটিশ ও জমিদারি অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা তিতুমীরের ছবিও। তার জায়গায় উঠেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) ছবি। আর এই এক বদলেই বারাসতে শুরু হয়েছে ইতিহাস বনাম রাজনীতির নতুন সংঘাত।

বুধবার হিন্দু জাগরণ মঞ্চের ‘অখণ্ড ভারত সংকল্প’ সপ্তাহের অনুষ্ঠান ঘিরেই এই নাম ও ছবি বদলের ঘটনা ঘটে। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও তাঁদের কাঙ্ক্ষিত ‘সামাজিক জয়’ এখনও আসেনি। সেই ভাবনা থেকেই তিতুমীর সভাকক্ষের (Titumir auditorium) নাম বদলে শ্যামাপ্রসাদ ভবন করা হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের নেতা সঞ্জীব মাহাতোর।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, একটি সরকারি জেলা পরিষদ ভবনের সভাকক্ষের নাম কি এভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচির মঞ্চ থেকে বদলে দেওয়া যায়? আর যদি যায়, তাহলে সিদ্ধান্তটি কার? জেলা পরিষদের? প্রশাসনের? নাকি কোনও রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের?

বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে বিজেপির যুক্তিতে। বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির আইনজীবী সেলের কনভেনর নিমাই রায়ের দাবি, দেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে তিতুমীরের (Titumir) তুলনায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান বেশি।

ইতিহাসও যেন ‘কে বেশি’ প্রতিযোগিতায়!

একদিকে বাদুড়িয়ার ভূমিপুত্র তিতুমীর (Titumir), উনিশ শতকে ব্রিটিশ শাসন ও জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করেছিলেন। তাঁর বাঁশের দুর্গই ইতিহাসে ‘বাঁশের কেল্লা’ নামে পরিচিত। অন্যদিকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আধুনিক ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ত নেতা।

দু’জনের সময়, ভূমিকা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। তবু তাঁদের মধ্যে ‘কে বেশি দেশপ্রেমিক’ বা ‘কার অবদান বেশি’, এই তুলনাই এখন নামবদলের অন্যতম রাজনৈতিক ব্যাখ্যা হয়ে উঠছে। আর এখানেই তৈরি হচ্ছে আসল বিস্ফোরক প্রশ্ন, ইতিহাস কি এখন রাজনৈতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে নামফলক বদলাবে?

১৯৮৬ সালে অবিভক্ত ২৪ পরগনা ভাগ হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা তৈরি হওয়ার পর থেকেই জেলা পরিষদের সভাকক্ষটির সঙ্গে তিতুমীরের নাম জড়িয়ে ছিল (Titumir auditorium)। অর্থাৎ, নামটি শুধুমাত্র একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের স্মরণ নয়; উত্তর ২৪ পরগনার স্থানীয় ইতিহাসের সঙ্গেও তার যোগ ছিল। সেই নাম মুছে নতুন নাম বসানোয় তাই বিতর্কটা শুধু বিজেপি বনাম বিরোধী রাজনীতির নয়। প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক ঐতিহ্য নিয়েও।

আজ তিতুমীর, কাল আর কে?

রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে কি সরকারি ভবনের নাম, ছবি এবং স্মৃতির তালিকাও পাল্টাতে থাকবে? বারাসতের এই ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই সামনে এনে দিয়েছে। কারণ একটি সভাকক্ষের নাম বদল কখনও কখনও শুধুই নাম বদল থাকে না, তা হয়ে ওঠে কোন ইতিহাস মনে রাখা হবে আর কোন ইতিহাস দেওয়াল থেকে নামিয়ে রাখা হবে, সেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতীক। তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ব্রিটিশরা ভেঙেছিল। কয়েক শতাব্দী পর বারাসতে তাঁর নামের ‘কেল্লা’ ভাঙল একটি নামফলকে!

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন