কলকাতা: বুধবার রাতভর উত্তেজনার রেশ বৃহস্পতির সকালেও যাদবপুরের ক্যাম্পাসে (Jadavpur University) বিদ্যমান! সংঘর্ষের পর মুখোমুখি SFI-ABVP, উঠছে একাধিক অভিযোগ! বুধবার রাতে ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (FETSU)-এর সাধারণ সভা বা GB-কে কেন্দ্র করে বচসা থেকে হাতাহাতির অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনায় দুই পক্ষেরই একাধিক ছাত্র আহত হয়েছেন বলে দাবি। রাতের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালেও ক্যাম্পাসে (Jadavpur University) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা!
ABVP-র দাবি, FETSU-র ডাকা GB-তে তাদের সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি থেকেই বচসার সূত্রপাত। সংগঠনের ইউনিট প্রেসিডেন্ট নিখিল দাসের অভিযোগ, ওই সভায় ABVP সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়। তাঁর দাবি, ঘটনায় তিনি-সহ সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাঁদের KPC মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
অন্যদিকে, বাম ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে (Jadavpur University) বহিরাগতদের প্রবেশ করানো হয়েছিল। SFI-এর কলকাতা জেলা সম্পাদক শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে তাড়া করা হয় এবং তাঁরা অরবিন্দ ভবনের ভিতরে আশ্রয় নেন। এরপর ভবনের বাইরে আগুন জ্বালানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে ভিতরে থাকা পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে এই আগুন লাগানোর অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। একইভাবে বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগ নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে।
ঘটনার জেরে দুই পক্ষের আহতদের আলাদা হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ABVP-র সদস্যদের KPC মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং বাম ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন সদস্যকে বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে আরও এক রাজনৈতিক সংঘাত। ABVP-র পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে (Jadavpur University) ‘গণতান্ত্রিক ভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর কথা বলা হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের বদলে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠন ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চাইছে।
পাল্টা SFI-এর তরফে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ছাত্রদের সংঘর্ষের সময় SFI ঘটনাস্থলে ছিল না। তাঁর প্রশ্ন, নির্বাচন নিয়ে যদি এতটাই আস্থা থাকে, তাহলে ছাত্রভোট ঘোষণা করে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা হোক। বুধবার রাতের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে (Jadavpur University) দুই পক্ষ আলাদা কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। ফলে সংঘর্ষের রেশ যে এখনও কাটেনি, তা স্পষ্ট।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন, একটি ছাত্রসভাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বচসা কীভাবে এত বড় সংঘর্ষে পরিণত হল? আগুন লাগানোর অভিযোগের বাস্তবতা কী? ক্যাম্পাসে (Jadavpur University) বহিরাগতরা ঢুকেছিল কি না? এবং এই ঘটনার পিছনে কি শুধুই ছাত্র সংগঠনগুলির অভ্যন্তরীণ সংঘাত, নাকি আসন্ন ছাত্র রাজনীতির বৃহত্তর সমীকরণও কাজ করছে? এই প্রশ্নগুলির উত্তরই নির্ধারণ করবে যাদবপুরের বুধবার রাতের ঘটনার আসল ছবি। আপাতত অবশ্য অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।


