30 C
Kolkata
Thursday, August 20, 2026
spot_img

মির্জা গালিব স্ট্রিট কাণ্ডের জের! শহরের হোটেলে এবার প্রশাসনের ‘সারপ্রাইজ’ নজরদারি

Aaj India Desk, কলকাতা: মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এবার নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা প্রশাসন (Kolkata Civic Administration)। আবাসিক ভবনে কীভাবে হোটেল চলছিল, আর সেই হোটেল কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স (Trade License) পেল—এই প্রশ্নগুলিই এখন সামনে। দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী (Koushik Chowdhury) জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এরই মধ্যে কলকাতার বিভিন্ন হোটেল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু করছে প্রশাসনের যৌথ তদন্তকারী দল (SIT)। কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরোতেই আলাদা কমিটি তৈরি করা হয়েছে।

এই কমিটিতে থাকছে কলকাতা পুরসভা, দমকল, কলকাতা পুলিশ, কেএমডিএ এবং সিইএসসি। এবার পুরসভার লাইসেন্স বিভাগকেও এই দলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কোনও হোটেল বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বৈধ কি না, তা ঘটনাস্থলেই যাচাই করা যাবে।

পরিদর্শনের সময় মূলত দেখা হবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে কি না। Fire Safety Certificate বা NOC রয়েছে কি না, ফায়ার অ্যালার্ম, স্প্রিংকলার ও অন্যান্য অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ঠিকমতো কাজ করছে কি না, সেগুলিও পরীক্ষা করা হবে।

এছাড়াও জরুরি সময়ে বেরিয়ে আসার জন্য পর্যাপ্ত Emergency Exit রয়েছে কি না, সিঁড়ি ও করিডর বাধামুক্ত কি না এবং ভবনের ভিতরে কোনও বেআইনি নির্মাণ বা পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন জায়গায় দাহ্য সামগ্রী রাখা হয়েছে কি না, সেটিও দেখা হবে।

এর পাশাপাশি পুরসভা ও দমকলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ব্যবসার বৈধ লাইসেন্স এবং ভবনটি যে কাজে ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে, বাস্তবে সেই কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে কি না—সেটিও পরীক্ষা করবে তদন্তকারী দল। বিশেষ করে আবাসিক ভবনকে নিয়ম না মেনে হোটেল বা অন্য বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

প্রশাসনের এই উদ্যোগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হল পুরসভার লাইসেন্স বিভাগ। কোনও প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন থাকলে এবার ঘটনাস্থলেই তার তথ্য পাওয়া যাবে। অর্থাৎ শুধু অগ্নিনিরাপত্তা নয়, হোটেল বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি আদৌ নিয়ম মেনে চলছে কি না, সেটিও একসঙ্গে যাচাই করা হবে।

১৬টি বরো জুড়ে এই পরিদর্শন শেষ হলে শহরের কোথায় অগ্নিনিরাপত্তায় ঘাটতি রয়েছে, কোথায় বেআইনি নির্মাণ হয়েছে এবং কোথায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা চলছে—তার একটি স্পষ্ট ছবি প্রশাসনের হাতে আসবে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন