কলকাতা: দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর শেষমেশ অস্তিত্বই হারাল উচ্চ প্রাথমিকে তৈরি হওয়া ১ হাজার ৬০০ ‘সুপার নিউমেরারি’ পদ (Supernumerary posts)! বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে রাজ্যের ঘোষণার পর কার্যত বাতিল হয়ে গেল পূর্বতন সরকারের আমলে তৈরি এই অতিরিক্ত শূন্যপদগুলির নিয়োগ-পর্ব।
বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চে এদিন মামলার শুনানি ছিল। সেখানেই বর্তমান রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, পূর্বতন সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই সুপার নিউমেরারি পদগুলিতে (Supernumerary posts) আর নিয়োগের পথে এগোবে না সরকার। সেই বিজ্ঞপ্তিই প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। ফলে বুধবার থেকেই কার্যত ১৬০০ সুপার নিউমেরারি পদের আর কোনও অস্তিত্ব থাকল না।
ঘটনার সূত্রপাত আরও এক দশক আগে। ২০১৬ সালের উচ্চমাধ্যমিকে কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য তৎকালীন সরকার অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করেছিল। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয় আইনি বিতর্ক। মামলা গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে হাই কোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর একক বেঞ্চ ওই অতিরিক্ত পদে (Supernumerary posts) নিয়োগের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। পাশাপাশি, তৎকালীন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত নিয়ে সিবিআই তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এরপর মামলা পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালত সিবিআই তদন্তের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিলেও অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করে নিয়োগের সিদ্ধান্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিষয়টিও উঠে আসে। এরই মধ্যে বদলে যায় রাজ্যের সরকার। আর সরকার বদলের পরই এই মামলায় এল বড় মোড়।
বুধবার হাই কোর্টে নতুন সরকারের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার, আগের সরকারের বিজ্ঞপ্তি মেনে সুপার নিউমেরারি (Supernumerary posts) পদে নিয়োগ করা হবে না। বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ, বছরের পর বছর ধরে মামলা, স্থগিতাদেশ, সিবিআই তদন্তের নির্দেশ, সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই, সবকিছুর শেষে ১৬০০ অতিরিক্ত পদের নিয়োগ-সম্ভাবনাতেই পড়ল যবনিকা।
এক সিদ্ধান্তে ‘গায়েব’ ১৬০০ পদ!
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এটি শুধুমাত্র নিয়োগের প্রক্রিয়া থেমে যাওয়া নয়। রাজ্যের ঘোষণার ফলে সুপার নিউমেরারি পদগুলিই আর থাকছে না। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই পদগুলিকে ঘিরে এতদিন ধরে যে নিয়োগের আশা তৈরি হয়েছিল, সেই প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ কী? আর পূর্বতন সরকারের তৈরি অতিরিক্ত পদ (Supernumerary posts) বাতিলের পর উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় এর প্রভাবই বা কতটা পড়বে?
একদিকে পুরনো সরকারের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে বর্তমান সরকারের প্রত্যাহার, ১৬০০ পদ যেন রাজ্য রাজনীতির ‘সরকার বদল’-এর সঙ্গেই ভাগ্য বদলের নজির হয়ে উঠল। এখন নজর থাকবে, এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে কোনও আইনি চ্যালেঞ্জ সামনে আসে কি না এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জন্য সরকার পরবর্তী কোনও পদক্ষেপ ঘোষণা করে কি না


