Aaj India Desk, কলকাতা : তারাপীঠের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো খোদ কলকাতায়। বুধবার নিউমার্কেটের বহুতল হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (New Market Fire Incident) জেরে মৃত্যু হয় ৯ জনের। এই মৃত্যুর পর থেকেই একের পর এক উঠে আসছে নানান অনিয়মের অভিযোগ। এর মধ্যেই বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, তৃনমূল আমলে চলতে থাকা দুর্নীতির কারণেই আজ এই অবস্থা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার দ্রুত ও যথাযথ তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, নিউমার্কেট এলাকার ওই বহুতলে একাধিক হোটেল ছিল। এই এলাকার হোটেলগুলিতে মূলত পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থেকে আসা মানুষ এবং বাংলাদেশের নাগরিকরা থাকতেন। হোটেলের ঘরগুলির আয়তনও ছিল বেশ ছোট। পাশাপাশি জায়গাটি ঘিঞ্জি, ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন লাগার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বহু ঘরে সেই সময় এসি চলছিল। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান তদন্তকারীরা। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরা।
বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে যান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। পরিস্থিতি (New Market Fire Incident) খতিয়ে দেখার পর হোটেলগুলির অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্ষুদ্ধ অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর প্রশ্ন, একটি বহুতলের ভিতরে কীভাবে একাধিক হোটেল চলছিল? এতগুলি এসি চলার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল? পুরসভার তরফে কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হল? একই সঙ্গে দমকলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, বহুতলটিতে বিপুল সংখ্যক এসি চলার পর বিদ্যুৎ সংযোগ এবং লোড সংক্রান্ত অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সিইএসসির ভূমিকাও খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, “তৃনমূল আমলে বিশাল পরিমাণ দূর্নীতির কারণেই এই অবস্থা।” পাশাপাশি নিউমার্কেটের এই ভয়ানক ঘটনার পর কলকাতা পুরসভার আওতাধীন সমস্ত হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ও অনুমোদন ব্যবস্থা নিয়ে অডিট করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। (New Market Fire Incident) তবে পর পর দুটি অগ্নিকাণ্ডের জেরে এখন হোটেল পরিচালনা, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। আগামী দিনে সেই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর মিলবে কিনা, সেটাই দেখার।


