কলকাতা: মধ্যরাতে আচমকা আগুন। ঘুমের মধ্যেই চারপাশ ঢেকে গেল ঘন কালো ধোঁয়ায়। প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া ছুটোছুটি, অথচ বেরোনোর পথ কার্যত একটাই আর সেটিও অত্যন্ত সংকীর্ণ। কলকাতার নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি বহুতল হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে (New Market Hotel Fire) ঝরে গেল ৯টি তরতাজা প্রাণ। গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও অনেকে।
ঘটনার পর ওই বহুতলের অন্দরে ঢুকতেই সামনে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। পাঁচতলা ভবনের বিভিন্ন তলায় একাধিক হোটেল চলছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। ছোট ছোট ঘর, একাধিক এসি, গাদাগাদি করে আবাসিক! অভিযোগ, অগ্নিনিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থাও কার্যত ছিল না।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, এমন একটি বহুতলে (New Market Hotel Fire) কীভাবে হোটেল চালানোর অনুমতি মিলল? পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যানের নিয়ম মানা হয়েছিল কি? ট্রেড লাইসেন্সই বা কীভাবে দেওয়া হল? অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা কোথায় ছিল?
আগুনের তীব্রতা খুব বেশি না হলেও কালো ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের ভিতরে। ঘুমন্ত আবাসিকরা প্রাণ বাঁচাতে দিশেহারা হয়ে পড়েন। কেউ শৌচালয়ে আশ্রয় নেন, কেউ বেরোনোর রাস্তা খুঁজতে গিয়ে আটকে পড়েন। এমনকি একজন প্রাণ বাঁচাতে উপর থেকে ঝাঁপ দেন বলেও জানা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নিয়ম ভেঙে ভবনের ভিতরে ঘর তৈরি ও হোটেল চালানোর রমরমা চলছিল। টাকার বিনিময়ে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
এই ঘটনায় মৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে ওই এলাকার হোটেলগুলিতে বহু বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের পরিজন থাকেন। ফলে এই অগ্নিকাণ্ডের (New Market Hotel Fire) অভিঘাত সীমান্ত পেরিয়েও পৌঁছেছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিক। অগ্নিকাণ্ডের কারণ, হোটেল চালানোর অনুমতি, ট্রেড লাইসেন্স এবং অগ্নিনিরাপত্তার বিধি মানা হয়েছিল কি না? সবকিছু খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কথা জানানো হয়েছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই, আগুন (New Market Hotel Fire) কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি বছরের পর বছর জমে থাকা অব্যবস্থাই এই ‘মৃত্যুফাঁদ’ তৈরি করেছিল? তদন্তের রিপোর্টই দেবে সেই উত্তর।


