Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যে পরিবেশ রক্ষায় বড়সড় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ঘোষণা করল সরকার। মঙ্গলবার মহরকুঞ্জের অনুষ্ঠানে ‘গ্রিন ইন্ডিপেন্ডেন্স’ কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, চলতি বর্ষায় রাজ্যজুড়ে ১০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন দফতরের রেঞ্জার, বিট অফিসার, ফরেস্ট গার্ড এবং ফরেস্ট অ্যাসিস্ট্যান্টদের বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী অক্টোবর, অর্থাৎ দুর্গাপুজোর সময় থেকেই এই কাঠামো কার্যকর হবে। (Tree Plantation)
একসঙ্গে ৫০ লক্ষ চারা রোপণ
মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে প্রায় ৫০ লক্ষ চারা লাগানো হচ্ছে। এই কর্মসূচিতে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরও যুক্ত রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। (Tree Plantation)
তিনি বলেন, ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যে ৭ কোটি ২০ লক্ষ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পরে রাজ্যের জনসংখ্যা ও উত্তরপ্রদেশে বৃক্ষরোপণের উদাহরণ সামনে রেখে সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১০ কোটি করা হয়েছে।
সুন্দরবনে ৩ কোটি ম্যানগ্রোভ
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে তিন কোটি ম্যানগ্রোভ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে মূলত সেই কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি ২০২৭ সালে রাজ্যে আরও ২০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী দিনে লাগানো গাছগুলির রক্ষণাবেক্ষণের উপরও জোর দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। (Tree Plantation)
বনকর্মীদের বেতন বাড়ছে
শারদীয়ার আগে বন দফতরের কর্মীদের জন্য বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে।
- রেঞ্জার: প্রায় ৫০০ জন রেঞ্জারের মাসিক বেতন ৫,০০০ টাকা বাড়বে।
- বিট অফিসার: প্রায় ৫০০ জন বিট অফিসারের বেতনও মাসে ৫,০০০ টাকা বাড়বে।
- ফরেস্ট গার্ড: ৬৫০ জন ফরেস্ট গার্ডের বেতন মাসে ৫,০০০ টাকা বাড়বে।
- ফরেস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট: প্রায় ১,৫০০ জনের মাসিক ভাতা ১০,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২,০০০ টাকা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর থেকেই এই বর্ধিত বেতন ও ভাতা কার্যকর হবে।
কলকাতার সবুজায়নে জোর
শহরের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আকাশপথে বৃহত্তর কলকাতার দিকে তাকালে পর্যাপ্ত সবুজের অভাব দেখা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিউ টাউনের সবুজায়নের উদাহরণ দিয়ে কলকাতার ‘ফুসফুস’ রক্ষায় আরও বেশি গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে সবুজ এলাকার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আবাসন উন্নয়ন সংস্থা ও নির্মাণ সংস্থাগুলিকে নিয়ম মেনে কাজ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বজ্রপাত ঠেকাতে প্রাকৃতিক ‘ঢাল’
বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় নারকেল ও সুপারি গাছকে প্রাকৃতিক ‘লাইটনিং অ্যারেস্টার’ হিসেবে ব্যবহারের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গত ১০১ দিনে রাজ্যে বজ্রপাতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।কলকাতার একাধিক ভবনে লাইটনিং অ্যারেস্টার থাকলেও সেগুলি সক্রিয় নয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ, দমকল, পূর্ত দফতর এবং কলকাতা পুরসভাকে যৌথভাবে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার ম্যানগ্রোভ ধ্বংস নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, গোসাবা, বাসন্তী, টাকি ও সাগর এলাকায় জলাভূমি ও বনভূমি দখল করে বেআইনি ইটভাটা তৈরির অভিযোগ তোলা হয়েছে। ম্যানগ্রোভকে উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় হিসেবে উল্লেখ করে তা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় ম্যানগ্রোভের ভূমিকা এবং উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষার বিষয়টিও অনুষ্ঠানে উঠে আসে।


