Aaj India Desk,কলকাতা: বাংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা। আর স্বাস্থ্যসুরক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের মঞ্চে গুরুগম্ভীর পরিবেশকে নিজের চেনা রসিকতায় বেশ খানিকটা হালকা করে দিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। মঞ্চে একঝাঁক মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিকের মাঝে বসে শুরুতেই নিজের পরিচয় নিয়েই এমন কৌতুক করলেন যে হাসি চাপতে পারলেন না উপস্থিত অনেকেই।
‘আমি কে?’ প্রশ্নের উত্তরও দিলেন নিজেই!
মঞ্চে এত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী দেখে মিঠুনের নাকি নিজেরই মনে হচ্ছিল এই ভিড়ে তিনি আবার কে? তবে প্রশ্নটা বেশি সময় ঝুলিয়ে রাখেননি। নিজেই উত্তর দিয়ে বললেন, তিনি ‘সতিমন্ত্রী’! কারণ প্রতিমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই।
মিঠুনের এই রসিকতায় শুরুতেই জমে যায় অনুষ্ঠান। পাশে বসা শুভেন্দু অধিকারীকেও তিনি ‘সবচেয়ে প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী’ বলে সম্বোধন করেন। অর্থাৎ বক্তব্যের শুরুতেই যে ‘মহাগুরু’ নিজের ছন্দে চলে এসেছেন, তা বুঝতে বেশি সময় লাগেনি।
‘ব্যান’ থাকলেও মানুষকে কার্ড করাতে বলতেন
এরপর অবশ্য মিঠুন ফিরে যান আয়ুষ্মান ভারত প্রসঙ্গে। তাঁর দাবি, বাংলায় এই প্রকল্প কার্যকর না থাকলেও বহুদিন ধরেই তিনি মানুষকে আয়ুষ্মান কার্ড করার কথা বলে এসেছেন।
বিভিন্ন সভায় গিয়ে মানুষ যখন তাঁকে প্রশ্ন করতেন, বাংলায় যদি প্রকল্পটি না-ই চলে, তাহলে কার্ড করে লাভ কী তখন মিঠুন তাঁদের বিকল্প হাসপাতালের কথা বলতেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রেল হাসপাতাল কিংবা সামরিক হাসপাতালের মতো জায়গায় সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও তিনি মানুষকে বুঝিয়েছেন। কোথাও কোথাও নিজে বসে থেকে আয়ুষ্মান কার্ড করিয়ে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
‘ডায়লগ বলব না’ কথাটা টিকল না!
আয়ুষ্মান ভারত বাংলায় চালু হওয়ায় নিজের খুশির কথাও জানান মিঠুন। তবে তাঁর বক্তব্যের আসল বিনোদন তখনও বাকি। বক্তব্য শেষ করার আগে দর্শকদের মুখ দেখে যেন মিঠুনও বুঝে ফেলেছিলেন, তাঁরা আসলে কী শুনতে চাইছেন!
হেসে তিনি বলেন, তাঁর এত ভালো ভালো কথা হয়তো দর্শকদের খুব একটা ভালো লাগছে না। কারণ সবাই অপেক্ষা করছেন, কখন ‘দাদা’ ডায়লগ মারবেন! এরপর অবশ্য নিজেই ঘোষণা করেন, এই মঞ্চে তিনি কোনও ডায়লগ বলবেন না।কিন্তু মিঠুন চক্রবর্তী ডায়লগ না বলে মঞ্চ ছাড়বেন এটা যেন একটু কঠিন ব্যাপার!
‘জাত গোখরো’ মিঠুনের এক ছোবলেই জমে গেল সভা
কথা রাখলেন না ‘মহাগুরু’। আচমকাই চেনা গর্জন শোনা গেল তাঁর গলায়। মিঠুন বললেন, তিনি জলঢোড়া নন, বেলেবোড়াও নন তিনি ‘জাত গোখরো’! আর তারপর সেই বহু পরিচিত সংলাপ ‘এক ছোবলে ছবি’!
এক মুহূর্তেই সভার পরিবেশ বদলে যায়। হাততালি, হাসি আর উচ্ছ্বাসে জমে ওঠে মঞ্চ। নিজের জনপ্রিয় সংলাপের প্রসঙ্গেই মিঠুন জানান, অতীতে এই ডায়লগ বলার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল। তাই এবার নাকি আরও জোরে বললেন!
স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল খানিকটা মিঠুনময়। ‘সতিমন্ত্রী’ থেকে ‘জাত গোখরো’এক মঞ্চেই নিজের রসিকতা আর সিনেমার ডায়লগে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে গেলেন ‘মহাগুরু’। আর শেষ হাসিটা? অবশ্যই মিঠুনের সেই এক ছোবলেই!


