Aaj India Desk, বীরভূম: রবিবার সকালে বাড়ির পার্টি অফিস থেকে বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোটও। সেখানে অপমানের কথা উল্লেখ করে আশিস লিখেছেন, ‘যেভাবে অপমান করা হয়েছে, মনে হচ্ছে রাজনীতিতে আসাই ভুল ছিল।’ তাঁর এই লেখা ঘিরেই এখন একাধিক প্রশ্ন উঠছে কী কারণে এমন মানসিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল? কারা তাঁকে অপমান করেছিলেন?
‘কিছু বখাটে ছেলের জন্য কষ্ট পেয়েছিলেন’
আশিসের মৃত্যু নিয়ে মুখ খুলেছেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর দাবি, অধ্যাপক হিসেবে আশিস অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিলেন। কয়েকজনের আচরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে নানা মন্তব্যের কারণে তিনি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছিলেন। অনুব্রত বলেন, কিছু ‘বখাটে ছেলে’র জন্যই আশিস মনের দিক থেকে কষ্ট পেয়েছিলেন।
‘দলে একটা নামকরা বখাটে রয়েছে’, কার দিকে ইঙ্গিত?
সেই ‘বখাটে’ কি দলেরই কেউ, তখন অনুব্রতর মন্তব্য আরও রহস্য বাড়ায়। তিনি বলেন, দলের মধ্যেই একজন ‘নামকরা বখাটে’ রয়েছে। তবে তাঁর নাম প্রকাশ্যে বলতে চাননি কেষ্ট। কেন নাম বলবেন না, জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টিকে দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে এড়িয়ে যান। তাহলে কি দলের ওই ব্যক্তির সঙ্গে আশিসের কোনও সম্পর্ক ছিল? অনুব্রতর জবাব, আশিসের সঙ্গে ওই ‘বখাটে’র ভালো সম্পর্ক ছিল। তবে আশিসের মৃত্যুর দিন এই প্রসঙ্গে আর কিছু বলতে চাননি তিনি। ফলে অনুব্রত কাকে ইঙ্গিত করেছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
২১ জুলাইয়ের ঘটনা নিয়েও ক্ষোভ
রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন আশিস। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। ভোটে তৃণমূলের ফল খারাপ হওয়ার পর তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেন বলে জানা যায়। গত ২১ জুলাই বর্ধমানের শক্তিগড়ে তাঁকে হেনস্থার অভিযোগও উঠেছিল। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শক্তিগড়ের ঘটনা দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী, দাবি কেষ্টর
শক্তিগড়ের ঘটনার প্রসঙ্গেও সরব হয়েছেন অনুব্রত। তাঁর দাবি, সেখানে আশিসের সঙ্গে অন্যায় হয়েছিল এবং বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী দেখবেন বলে তাঁকে জানিয়েছেন। অনুব্রত বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং বিষয়টি দেখার কথা বলেছেন। আশিসের মৃত্যুর পর কেষ্টর ‘নাম করা বখাটে’ মন্তব্য সেই ঘটনাক্রমের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।


