Aaj India Desk, কলকাতা: স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ১৪ অগস্ট রাতে কলকাতার রাজপথ সাক্ষী থাকল এক বিশেষ উদ্যোগের। ‘Freedom Beyond Midnight’ নামের এই পদযাত্রায় অংশ নেন হাজার হাজার মহিলা। রাত, রাস্তা কিংবা সময় কোনও কিছুই যেন একজন মহিলার স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে সীমাবদ্ধ করতে না পারে, সেই বার্তাই উঠে আসে এই কর্মসূচিতে।
স্বাধীনতা মানে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার
একজন মহিলা কী পরবেন, কী খাবেন, নিজের মতামত কীভাবে প্রকাশ করবেন, কখন বাড়ি থেকে বেরোবেন কিংবা কখন রাস্তায় হাঁটবেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর নিজের। তবে সেই স্বাধীনতার সঙ্গে সমাজের প্রতি দায়িত্ব ও সম্মান বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ‘Freedom Beyond Midnight’-এর মূল বক্তব্য ছিল, মহিলাদের এই অধিকারকে সম্মান করা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
একজন এগোলেই এগোয় গোটা সমাজ
স্বাধীনতার প্রাক রাতে এই পদযাত্রাকে মহিলাদের পাশে মহিলাদের দাঁড়ানোর প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরা হয়। একজন মহিলা যখন নিজের অধিকার নিয়ে এগিয়ে যান, তখন তাঁর সেই অগ্রযাত্রার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পরিসরে আটকে থাকে না। বরং তা বৃহত্তর সমাজের পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।
‘মর্যাদা’ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
‘দ্য ওয়াল’-এর এডিটর-ইন-চিফ শঙ্খদীপ দাসের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘মর্যাদা’-র প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, ঘর হোক কিংবা কর্মক্ষেত্র বা রাস্তাঘাট প্রতিটি জায়গাতেই মহিলাদের সমান সম্মান পাওয়া প্রয়োজন। তাঁদের অধিকার কী হবে, তা অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারেন না। সংবিধান যে অধিকার দিয়েছে, সমাজের দায়িত্ব সেই অধিকারকে সুরক্ষিত রাখা।
কেন ‘Beyond Midnight’?
এই নামের মধ্যেও রয়েছে একটি বিশেষ বার্তা। এখানে ‘Midnight’ শুধুমাত্র রাতের একটি নির্দিষ্ট সময়কে বোঝায় না, বরং প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ স্বাধীনতা বা অধিকার কোনও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাত হোক বা দিন, একজন মহিলার স্বাধীনতা সর্বক্ষণের।
১৪ অগস্টের রাতের এই পদযাত্রা তাই শুধুমাত্র একটি ওয়াকথন নয়। হাজার হাজার মহিলার একসঙ্গে হাঁটা হয়ে উঠল একটি সামাজিক অঙ্গীকার কলকাতার রাত, কলকাতার রাস্তা এবং স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার মহিলাদেরও সমানভাবে।


