Aaj lndia Desk, কলকাতা: স্বাধীনতা দিবসের (Independence Day) উদ্যাপনকে এবার আরও বর্ণময় ও জনসম্পৃক্ত করে তুলতে একাধিক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যকে একই মঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্যেই ১৫ অগাস্টের অনুষ্ঠানে অন্য রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যগুলির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
স্বাধীনতা দিবস নিয়ে রাজ্যগুলিকে কেন্দ্রের নির্দেশ
সোমবার দেশের সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিবদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি ও আয়োজনের নির্দেশিকা জানিয়েছে কেন্দ্র। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, প্রত্যেক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অন্য পাঁচটি রাজ্য অথবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিদের নিজেদের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে হবে।
তবে কলকাতার রেড রোডে রাজ্যের মূল স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কোন পাঁচ রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন, সেই তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সকাল ৯টার পর শুরু হবে অনুষ্ঠান
কেন্দ্রের নির্দেশিকায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের সময় নিয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য থেকে জেলা, মহকুমা, ব্লক এবং গ্রাম পঞ্চায়েত প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরেই সকাল ৯টার পর অনুষ্ঠান শুরু করার কথা বলা হয়েছে।
রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন। জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী, কমিশনার অথবা জেলাশাসক পতাকা উত্তোলনের দায়িত্বে থাকবেন। মহকুমা ও ব্লক স্তরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিক এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামস্তরে প্রধান বা পঞ্চায়েত প্রধান পতাকা উত্তোলন করবেন।
এক মাস ধরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে পরিচ্ছন্নতার উপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্র। ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযানের আওতায় রাজ্য ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি চিহ্নিত করে সেখানে এক মাস ধরে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যায় ‘অ্যাট হোম’ অনুষ্ঠান
১৫ অগাস্ট সন্ধ্যায় রাজ্যপাল অথবা লেফটেন্যান্ট গভর্নরের বাসভবনে বিশেষ ‘অ্যাট হোম’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথাও বলা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার পর এই অনুষ্ঠান করার নির্দেশ রয়েছে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ অতিথিদের জন্য ২৫ থেকে ৫০টি আসন আলাদাভাবে রাখার কথাও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের নিজস্ব খাবারকে তুলে ধরেও উৎসব আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কর্মসূচি
কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানগুলি যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবারের স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সামনে আনার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ, ক্রীড়া, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা এবং সামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানিয়ে উদ্যাপনকে আরও জনমুখী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


