29 C
Kolkata
Thursday, August 13, 2026
spot_img

নিয়োগ দুর্নীতির ‘সিট’এবার ভাঙতে চায় CBI! হাইকোর্টে বিশেষ আর্জি কেন্দ্রীয় সংস্থার

Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) মামলার তদন্ত নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) বড় আপডেট জানাল সিবিআই (CBI)। বুধবার আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত বেশিরভাগ মামলার তদন্ত ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই আলাদা করে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) রাখার আর প্রয়োজন নেই বলে আদালতে আবেদন জানিয়েছে CBI।

সিবিআইয়ের আইনজীবী আদালতে জানান, বাকি যে কাজ রয়েছে, তা দুর্নীতিদমন শাখার সাধারণ পরিকাঠামোর মাধ্যমেই করা সম্ভব। সেই কারণে ২০২২ সালে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৈরি হওয়া SIT ভেঙে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, CBI-এর হাতে থাকা নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই মামলাগুলিতে চূড়ান্ত চার্জশিটও জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির মামলার তদন্তও শেষ করে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে।

তবে SIT-এর আওতায় থাকা আরও তিনটি মামলার তদন্ত আপাতত থমকে রয়েছে। কারণ, ওই মামলাগুলির তদন্তের উপর সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। CBI-এর বক্তব্য, অধিকাংশ মামলায় তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়ে যাওয়ায় SIT বহাল রাখার আর বিশেষ প্রয়োজন নেই।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতির পরিধি এবং গুরুত্ব বিবেচনা করে CBI-কে আলাদা SIT গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। দ্রুত এবং বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই ছিল সেই SIT তৈরির মূল উদ্দেশ্য। এরপর থেকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল এই বিশেষ দল।

এদিকে, পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED। গত মে মাসে এই মামলাতেই প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সম্প্রতি তৃণমূল নেতা মদন মিত্র এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকেও দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ED আধিকারিকরা।

সব মিলিয়ে, CBI-এর দাবি, নিয়োগ দুর্নীতি মামলার বড় অংশের তদন্ত ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি মামলায় চার্জশিটও জমা পড়েছে। তাই এবার আলাদা SIT-এর পরিবর্তে দুর্নীতিদমন শাখার সাধারণ ব্যবস্থার মাধ্যমেই বাকি কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এখন কলকাতা হাই কোর্ট CBI-এর এই আবেদন মেনে SIT ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন