Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের আগে হাওড়া পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর পথে আরও এক ধাপ এগোল রাজ্য সরকার। গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় পাশ হওয়া হাওড়া পুরনিগম (সংশোধন) বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সেই বিলে ৫০টি থেকে ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৬ করার প্রস্তাব ছিল। এবার সেই প্রস্তাব বদলে ৬৮টি ওয়ার্ড করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তাই পুরনো বিল প্রত্যাহার করে নতুন বিল আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। (Howrah Municipal Corporation)
কেন প্রত্যাহার পুরনো বিল?
সরকারের বক্তব্য, নাগরিক পরিষেবা আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানোই হাওড়া পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা ও সীমানা নতুন করে নির্ধারণের মূল লক্ষ্য। ছোট প্রশাসনিক এলাকায় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং নজরদারি সহজ করতেই ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই পরিষেবাগুলির মধ্যে রয়েছে বাড়ি-বাড়ি পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি, জল জমার সমস্যা মোকাবিলা, রাস্তা সংস্কার এবং আবাসন প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। (Howrah Municipal Corporation)
বিধানসভায় কী বললেন অগ্নিমিত্রা?
এদিন বিধানসভায় নতুন বিল পাশের পর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, হাওড়া ও কলকাতা দুই পুরনিগমেই ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত করা। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যে প্রাথমিক পরিষেবা থেকে এতদিন বঞ্চিত হয়েছেন, তা তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের উদ্দেশ্য। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে কলকাতা ও হাওড়ায় জল জমা ও নিকাশি সমস্যার যে ছবি সামনে এসেছে, তা নিয়েও তিনি পূর্ববর্তী সরকারকে আক্রমণ করেন। (Howrah Municipal Corporation)
সব মিলিয়ে, ৬৬টির বদলে ৬৮টি ওয়ার্ড করার পরিকল্পনাই হাওড়া পুরনিগমের পুরনো বিল প্রত্যাহারের মূল কারণ বলে সরকারের বক্তব্য। নাগরিক পরিষেবা উন্নয়নকে সামনে রেখে নতুন করে ওয়ার্ডের সীমানা ও সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। তবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। নতুন বিলের মাধ্যমে হাওড়া পুর প্রশাসনের কাঠামোয় কী পরিবর্তন আসে, এখন সেটাই দেখার।


