Aaj India Desk, কলকাতা : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhas Chandra Bose) কথিত চিতাভস্ম জাপানের রেনকোজি মন্দির থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনার আবেদন নিয়ে কেন্দ্রের জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার, ১১ অগস্ট, নেতাজির কন্যা অনিতা বোস ফাফের আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রকে নোটিস দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চাইল আদালত
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। অনিতা বোস ফাফের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংঘভি। শুনানিতে আদালত কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে নোটিস জারির নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রের জবাব পাওয়ার পরই মামলাটির পরবর্তী অগ্রগতি স্পষ্ট হবে।
কী দাবি অনিতা বোস ফাফের?
অনিতার আবেদনের মূল দাবি, টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত নেতাজির (Netaji Subhas Chandra Bose) কথিত চিতাভস্ম বা দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কেন্দ্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি মনে করেন, নেতাজির দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ভারতে যথাযথ মর্যাদায় শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা উচিত। দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিতে তিনি কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন।
মার্চে একই বিষয়ে মামলা
চলতি বছরের মার্চে নেতাজির মহাভ্রাতুষ্পুত্র আশীষ রায়ও একই দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই আবেদন শুনতে গিয়ে আদালত জানিয়েছিল, নেতাজির কন্যা ও সরাসরি উত্তরাধিকারী অনিতা বোস ফাফ নিজেই আবেদন করলে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এরপর আশীষ রায়ের আবেদন প্রত্যাহার করা হয়। অনিতা সরাসরি আবেদন করার পর ফের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের সামনে এসেছে।
রেনকোজিতে কেন রয়েছে চিতাভস্ম?
সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট তাইপেইয়ে বিমান দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত হয়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhas Chandra Bose) মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর দেহ দাহ করা হয় এবং সেই চিতাভস্ম জাপানের টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হয়। এই চিতাভস্মকেই নেতাজির দেহাবশেষ হিসেবে দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন করেছেন তাঁর কন্যা।
তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে
নেতাজির মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। শাহনওয়াজ কমিটি এবং খোসলা কমিশন বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর তত্ত্বকে সমর্থন করেছিল।অন্যদিকে, বিচারপতি মুখার্জি কমিশন ২০০৫ সালে বিমান দুর্ঘটনার তত্ত্ব গ্রহণ করেনি এবং রেনকোজি মন্দিরে থাকা চিতাভস্ম নেতাজির নয় বলে মত দিয়েছিল। তবে কেন্দ্র সরকার সেই রিপোর্ট গ্রহণ করেনি এবং বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর অবস্থানই বজায় রেখেছে।
নেতাজির কথিত দেহাবশেষ দেশে ফেরানোর বিষয়ে এখন কেন্দ্রের বক্তব্যই গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্টের নোটিসের পর কেন্দ্র কী অবস্থান নেয়, তার উপর মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে। ২৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।


