Aaj India Desk, কলকাতা : হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মী বিরজু কোয়েতের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ও চাকরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। এবার তাঁর মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন আরজি কর কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মা ও পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। তাঁর বক্তব্য, হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা এবং আরজি করের মতো হাসপাতালের ভিতরে কর্তব্যরত চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কোনওভাবেই এক করে দেখা যায় না।
কী বলেছিলেন কুনাল ঘোষ?
মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর কুণাল ঘোষ বলেন, হালিশহর-কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন তা যদি ন্যায্য হয়, তাহলে আরজি কর কাণ্ডের সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণকে কেন ‘ঘুষ’ বলে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল এবং আন্দোলনের ইস্যু করা হয়েছিল? তাঁর বক্তব্য, যদি একটি ঠিক হয়, তাহলে অপরটিও ঠিক।
পাল্টা জবাব রত্না দেবনাথের
এই প্রশ্নের জবাবে নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath) বলেন, দুই ঘটনার মধ্যে তুলনা করাই মৌলিকভাবে ভুল। তাঁর দাবি, তাঁর মেয়ে ছিলেন সরকারি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। হাসপাতালের ভিতরেই তিনি নৃশংসতার শিকার হন। ফলে সেই ঘটনার ক্ষেত্রে তৎকালীন সরকার ও প্রশাসনের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। পাশাপাশি তিনি বলেন, “আমরা ক্ষতিপূরণ নয়, বিচার চেয়েছিলাম।”
তৎকালীন সরকার ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করলেও প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি বলে জানান তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, প্রমাণ নষ্ট এবং কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ ওঠা পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং তাঁদের আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল। অন্যদিকে, হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আর্থিক সাহায্য ও চাকরির পাশাপাশি অভিযুক্ত বা কর্তব্যে গাফিলতির সঙ্গে যুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাই দুটো ঘটনাকে এক করে দেখাটাই ভুল বলে জানিয়েছেন তিনি।


