Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : বিরোধীদের বিক্ষোভ ও স্লোগানের মধ্যেই সোমবার লোকসভায় কোনও বিস্তারিত বিতর্ক ছাড়াই পাশ হল ট্রাইব্যুনালস রিফর্মস বিল, ২০২৬ (Tribunals Reforms Bill)। নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ২০ জুলাইয়ের পড়ুয়াদের বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবের দাবিতে সরব ছিলেন বিরোধী সাংসদরা। সেই হইহট্টগোলের মধ্যেই আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বিলটি পেশ করেন এবং পরে তা পাশ হয়ে যায়।
বিলের মূল লক্ষ্য কী?
বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ, সদস্যদের যোগ্যতা এবং চাকরির শর্তে অভিন্ন কাঠামো তৈরি করাই নতুন বিলের অন্যতম লক্ষ্য। এর জন্য ন্যাশনাল ট্রাইব্যুনালস কমিশন গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিল কার্যকর হলে বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দেখভালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই কমিশন। এর সদর দফতর হবে দিল্লিতে।
কমিশনে থাকবেন পাঁচ সদস্য
প্রস্তাবিত ন্যাশনাল ট্রাইব্যুনালস কমিশনে মোট পাঁচ জন সদস্য থাকবেন। তাঁদের মধ্যে থাকবেন একজন চেয়ারম্যান, দু’জন বিচারবিভাগীয় সদস্য এবং দু’জন কারিগরি সদস্য। অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অথবা অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে কমিশনের চেয়ারম্যান করার বিধান রাখা হয়েছে। (Tribunals Reforms Bill)
কেন প্রয়োজন নতুন কাঠামোর?
ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার সংস্কারের ক্ষেত্রে ২০২১ সালের আইন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। সেই আইনের কয়েকটি বিধান নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলেছিল। বিচারবিভাগের স্বাধীনতা এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণের নীতির সঙ্গে কিছু বিধানের সামঞ্জস্য নিয়েও আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল। ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য একটি স্বাধীন কমিশনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে আসে। নতুন বিল সেই কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই আনা হয়েছে বলে কেন্দ্রের বক্তব্য।
নিয়োগ ও চাকরির শর্তে এক নিয়ম
চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগ্যতা, নির্বাচন ও নিয়োগের পাশাপাশি তাঁদের বেতন, ভাতা, পদত্যাগ, অপসারণ এবং অন্যান্য চাকরির শর্তও বিলে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।বর্তমানে বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে যে পৃথক নিয়ম রয়েছে, তার বদলে একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ট্রাইব্যুনালের কাজের ধারাবাহিকতা বাড়বে। (Tribunals Reforms Bill)
বিরোধীদের আপত্তি কোথায়?
বিল পেশ ও পাশের সময় লোকসভায় বিরোধী সাংসদরা নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, ২০ জুলাইয়ের পড়ুয়াদের বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদে জবাব দিতে হবে। বিলটির বিরোধিতায় একাধিক সাংসদ নোটিসও দিয়েছিলেন। কিন্তু হইহট্টগোলের কারণে তাঁরা বিস্তারিত বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি। ফলে কার্যত কোনও দীর্ঘ সংসদীয় বিতর্ক ছাড়াই বিলটি পাশ হয়।
বিলটি আইনে পরিণত হলে ২০২১ সালের ট্রাইব্যুনালস রিফর্মস অ্যাক্ট বাতিল হবে। নতুন ব্যবস্থায় ট্রাইব্যুনালের নিয়োগ ও পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে ন্যাশনাল ট্রাইব্যুনালস কমিশন কেন্দ্রীয় ভূমিকা নেবে।তবে নতুন কাঠামো বাস্তবে কতটা স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে পারে, তা আইন কার্যকর হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।


