শিলিগুড়ি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের সীমান্ত লাগোয়া এলাকা থেকে এক ভারতীয় চা চাষিকে (Tea Farmer) অপহরণ করে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে দীপঙ্কর গোপ নামে ৩৫ বছরের ওই চাষি বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন বলে দাবি পরিবারের। যদিও তাঁকে ঠিক কোথা থেকে এবং কী পরিস্থিতিতে আটক করা হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন, সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।
পরিবারের দাবি, শনিবার সকালে চাউলহাটি সীমান্তের কাছে নিজের প্রায় ছয় বিঘা চা বাগানে (Tea Farmer) কীটনাশক স্প্রে করতে গিয়েছিলেন দীপঙ্কর। অভিযোগ, সেই সময় বাংলাদেশের দিক থেকে একদল দুষ্কৃতী সীমান্ত পেরিয়ে এসে তাঁকে জোর করে ধরে নিয়ে যায়। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তিও হয়। পরিবারের দাবি, প্রায় ২০ জনের মতো লোক তাঁকে ধরে বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের দিকে নিয়ে যায়।
ঘটনার নেপথ্যে কয়েক দিন আগের একটি সীমান্ত ঘটনার যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ পরিবারের। তাঁদের দাবি, ৬ অগস্ট চাউলহাটি সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া কেটে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন এক বাংলাদেশি নাগরিক। বিএসএফ তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ওই ব্যক্তির সঙ্গে সীমান্তপারের চোরাচালানচক্রের যোগ ছিল বলেও পরিবারের দাবি। তাঁর গ্রেফতারের কয়েক দিনের মধ্যেই দীপঙ্করকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ‘বদলা’র তত্ত্ব সামনে এসেছে।
ঘটনার পর একটি ভিডিয়োও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে। সেখানে দীপঙ্করকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ওই বাংলাদেশি নাগরিককে ছেড়ে দিলে তাঁকেও ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে ভিডিয়োটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
দীপঙ্করের বাবা মিছরিলাল গোপের দাবি, ছেলে কোনও অপরাধে যুক্ত ছিলেন না। সীমান্তের কাছে নিজের বাগানে (Tea Farmer) কাজ করতেই গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর একটাই আবেদন, ছেলেকে যেন সুস্থ অবস্থায় দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
এখন তদন্তকারীদের সামনে একাধিক প্রশ্ন, সীমান্তের এত কাছে এসে কীভাবে দীপঙ্করকে তুলে নিয়ে যাওয়া হল? সত্যিই কি এর পিছনে চোরাচালানচক্র রয়েছে? কয়েক দিন আগে আটক হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ আছে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সীমান্তে অপরাধ ঠেকানোর ‘বদলা’ নিতেই কি এবার সাধারণ এক চা চাষিকে (Tea Farmer) টার্গেট করা হল?


