Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বারবার বলেছে বিজেপি সরকার। রবিবার ক্রেডাই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেই অবস্থানই ফের স্পষ্ট করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে বিগত সরকারের শিল্পনীতি, তোলাবাজি এবং রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন তিনি।
‘বড় বিনিয়োগ না এলে রাজ্য বাঁচবে না’
শমীক বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মেধা ও দক্ষ মানবসম্পদ রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো সুবিধাও রয়েছে। তা সত্ত্বেও এতদিন রাজ্যে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ আসেনি বলে দাবি তাঁর। তাঁর বক্তব্য, এর পিছনে মূল সমস্যা ছিল ‘ইচ্ছের অভাব’। রাজ্যে ভারী শিল্প এবং বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শমীকের দাবি, আগের সরকারের আমলে শিল্পের পরিবর্তে তোলাবাজি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগই বেশি সামনে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে একের পর এক ক্ষেত্রে টাকা ‘সাইফন’ হয়েছে। সেক্টর ফাইভ ও নিউটাউনের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দের প্রসঙ্গ তুলে বিধাননগরের উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
‘আমার নাম করে টাকা চাইলে জানাবেন’
তোলাবাজি প্রসঙ্গেও দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। তিনি জানান, কেউ যদি বিজেপির নাম করে টাকা চান, তাহলে তাঁকে বিষয়টি জানাতে হবে। তাঁর দাবি, তাঁর নাম ব্যবহার করে নিউটাউনে এক ব্যক্তি টাকা তুলে কাজ আটকে দিয়েছিলেন। পুলিশকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতারের কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি।
শমীক বলেন, রাজ্য বিজেপির সভাপতি হিসেবে কোথাও তোলাবাজির অভিযোগ তাঁর কানে এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের কোনও সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ ভুল মনে হলে চিঠি দিয়ে জানাতেও তিনি আবেদন করেন।
জলস্তর থেকে ‘ল্যান্ড জিহাদ’, একাধিক ইস্যুতে সরব
রাজ্যের জলসংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শমীক। তাঁর দাবি, গঙ্গার কাছে থাকা বহু পুরসভাতেও প্রয়োজনীয় জল সরবরাহের পরিকাঠামো নেই এবং ভূগর্ভস্থ জল তোলার ফলে কলকাতার জলস্তর নেমে যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি রাজ্যের জনবিন্যাস পরিবর্তন, ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’-এর মতো রাজনৈতিক প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। ধর্মতলার বদলে যাওয়া চেহারা নিয়েও মন্তব্য করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
‘কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ’
শমীক বলেন, কৃষি রাজ্যের ভিত্তি হলেও শিল্পই ভবিষ্যতের পথ দেখাতে পারে। তাঁর কথায়, সরকার সব কাজ একা করতে পারে না। বিশ্ব এখন ‘গ্লোবাল ভিলেজ’, তাই শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতাও প্রয়োজন।
রাজ্যের ঋণের বোঝা, পুরসভাগুলির আর্থিক অবস্থা এবং কলকাতা পুরসভার আয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একইসঙ্গে স্বীকার করেন, নতুন সরকারের কাজেও কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। তবে দ্রুত সমস্যাগুলি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেন শমীক।


