কলকাতা: তোলাবাজি ও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে আপাতত গারদে নৈহাটির প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে (Sanat Dey)। তাঁর গ্রেপ্তারির পরই প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের অন্দরমহলের পুরনো দ্বন্দ্ব। এবার সরাসরি বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিককে নিশানা করলেন সনৎ-কন্যা সুদেষ্ণা দে।
ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্টে সুদেষ্ণার বিস্ফোরক দাবি, “পার্থ জেঠু এবার শান্তি পেয়েছেন তো, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে বাবাকে অ্যারেস্ট করা হলো।” শুধু অভিযোগ তুলেই থামেননি তিনি। বাবার সঙ্গে পার্থ ভৌমিকের সম্পর্কের পুরনো সমীকরণ নিয়েও একের পর এক বিস্ফোরক কথা লিখেছেন।
সুদেষ্ণার দাবি, তাঁর বাবা (Sanat Dey) পার্থ ভৌমিককে অত্যন্ত বিশ্বাস করতেন। এমনকি ২০২৪ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে কথা বলার আগেই পার্থ ভৌমিকের বাড়িতে গিয়ে আশীর্বাদ নিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “বাবা আপনাকে অন্ধবিশ্বাস করত, এটা সবথেকে বড় ভুল ছিল।”
অথচ সেই সম্পর্কের ছবিটাই নাকি পরে বদলে যায়। সুদেষ্ণার অভিযোগ, ২০১৯ সাল থেকেই নৈহাটিতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সময় তাঁর বাবা (Sanat Dey) সমস্যায় পড়েছিলেন এবং রাজনৈতিক হামলার মুখেও পড়েন। তখন পার্থ ভৌমিকের সাহায্য চাইলেও তা মেলেনি বলে দাবি তাঁর। এমনকি ফোনও বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
২০২৪ সালে পার্থ ভৌমিক বারাকপুরের সাংসদ হওয়ার পর দূরত্ব আরও বেড়েছিল বলেও দাবি সনৎ-কন্যার। যদিও একসময় দু’জনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েই এলাকায় জোর চর্চা ছিল। সনৎ দে (Sanat Dey)-র গ্রেপ্তারির পর সেই পুরনো সম্পর্কের হিসাবই কি এবার প্রকাশ্যে আসছে? নাকি গোটা ঘটনাই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র? সনৎ-কন্যার পোস্ট ঘিরে সেই প্রশ্নই এখন নতুন করে তুঙ্গে।


