কলকাতা: রাজ্যের পালাবদলের পর বিদ্রোহী হয়েছেন! ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও ১৯ সাংসদের সঙ্গে NCPI-তে যোগ দিয়েছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গেও ধীরেধীরে বাড়ছে ঘনিষ্ঠতা। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়ার আসল কারণ জানালেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান (Abu Taher Khan)। তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্ব্যবহার এবং মানসিক চাপেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুধু তাই নয়! একই সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও অভিষেক এবং I-PAC-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
আবু তাহেরের দাবি, নির্বাচনের আগে প্রার্থী তালিকা তৈরির সময়ই বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্ক করেছিলেন তাঁরা। তাঁর (Abu Taher Khan) বক্তব্য, অভিষেক ও I-PAC-এর ভূমিকা নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা তৎকালীন তৃণমূল নেতৃত্বকে জানানো হয়েছিল। এমনকি এই পদ্ধতি চললে নির্বাচনে দলের ফল খারাপ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল প্রকাশের পরই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয় বড়সড় ভাঙন। আবু তাহেরের (Abu Taher Khan) দাবি অনুযায়ী, ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন।
অর্থাৎ, নির্বাচনের আগে যে আশঙ্কার কথা তাঁরা জানিয়েছিলেন, ভোটের ফলের পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে! এমনটাই দাবি আবু তাহেরের। বস্তুত, শনিবার তৃণমূলের অন্দরমহল নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের (Abu Taher Khan)। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের ফল খারাপ হওয়ার কারণ নিয়ে ভোটের পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্ক করেছিলেন তাঁরা।
এমনকি, নতুন দল NCPI-তে যোগ দেওয়া নিয়েও প্রথমে আবু তাহের ও জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানের মধ্যে দ্বিধা ছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে সেই সংশয় কাটিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে একই শিবিরে যোগ দেন তাঁরা। দলবদল ঘিরে এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের একাংশের ক্ষোভ তৈরি হলেও, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে বলে দাবি আবু তাহেরের।
তবে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। আবু তাহেরের (Abu Taher Khan) কথায়, “আমরা এনসিপিআইতেই আছি, বিজেপিতে নয়।” পাশাপাশি এনডিএ-র সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়ে তাঁর দাবি, “এনডিএ-র নামে বৈঠক হলে আমরা যাব না। ইস্যুভিত্তিক সব হবে।”


