কলকাতা: তৃণমূলের তোলাবাজি, কাটমানি ইস্যুকে হাতিয়ার করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু সরকার গঠনের কয়েকদিন পর একাধিক জায়গায় বিজেপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেই উঠেছে তোলাবাজির (Extortion) অভিযোগ। এই নিয়ে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব ‘জিরো টলারেন্সের’ বার্তা দিলেও, বাস্তবে ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে দাবী বিভিন্ন মহলের। এই আবহেই এবার ‘তোলাবাজি করলে ডিমভাজি ফ্রি’ পোস্টারে ছয়লাপ হোল কলকাতার সল্টলেক এলাকা।
কিন্তু কারা লাগাচ্ছে এই পোস্টার? বস্তুত, দলে ‘তৃণমূলীকরণ’ হয়েছে বলে দাবী বিজেপিরই একাংশ নেতা-কর্মীদের। সূত্রের খবর, এলাকার বিজেপি কর্মী সঞ্জয় পয়রা বিভিন্ন জায়গায় এই পোস্টার সাঁটিয়েছেন। পোস্টারের বড় হরফে লেখা, “তোলাবাজি (Extortion) করলে ডিমভাজি ফ্রি”। তার ঠিক উপরে লেখা হয়েছে, “দলের তৃণমূলীকরণ হচ্ছে বলেই তোলাবাজি চলছে বেড়েই।”
অর্থাৎ, বার্তার আড়ালে দলের ভিতরে নতুন করে জায়গা করে নেওয়া নেতা-কর্মীদের নিয়েই প্রশ্ন তুলতে চাওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়েই ক্ষোভ?
ভোটের পর বিভিন্ন জায়গায় দলবদল করে বিজেপিতে আসা কর্মীদের নিয়ে দলের অন্দরেই নানা সময়ে আপত্তির কথা শোনা গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নতুন করে দলে আসা একাংশের বিরুদ্ধে হুমকি, টাকা চাওয়া (Extortion) বা প্রভাব বিস্তারের মতো অভিযোগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সল্টলেকের পোস্টার যেন সেই ক্ষোভকেই প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। যদিও পোস্টারে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাঁদের নির্দিষ্ট করে নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে ‘তোলাবাজি’ (Extortion) এবং ‘তৃণমূলীকরণ’, এই দুই শব্দ পাশাপাশি ব্যবহার করেই দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে সামনে আনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
এখন প্রশ্ন, এটি কি শুধুই এক বিজেপি কর্মীর প্রতিবাদ, নাকি দলের আরও বড় অংশের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ? ‘ডিমভাজি ফ্রি’ পোস্টারের আড়ালে বিজেপির অন্দরের এই বার্তা কতটা দূর পর্যন্ত যায়, সেটাই এখন দেখার।


