নয়াদিল্লি: কেন্দ্রের মোদী সরকারের বর্তমানে সবচেয়ে বড় টার্গেট লোকসভায় ‘আসন পুনর্বিন্যাস’ বিল (Delimitation bill) পাশের জন্য ‘ম্যাজিক নাম্বারে’ পৌঁছনো! তারজন্য সর্বশক্তি লাগিয়ে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ। সেই সংখ্যা পূরণে আরও এক রাজনৈতিক দলের সমর্থন পেল এনডিএ সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের একদিনের মধ্যেই বড় ঘোষণা শিরোমণি অকালি দলের (Shiromani Akali Dal)।
কেন্দ্রের প্রস্তাবিত আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিলে (Delimitation bill) সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুখবীর সিং বাদলের দল। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই নতুন করে চর্চায় বিজেপি-অকালি সম্পর্ক। অকালির সমর্থন সংসদে প্রস্তাবিত বিল পাশের ক্ষেত্রে এনডিএ সরকারের শক্তি কিছুটা বাড়াবে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার অঙ্কে এই সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে শুধু সংসদীয় অঙ্কই নয়, এর পিছনে পাঞ্জাবের রাজনীতির একটি বড় সমীকরণও দেখছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ফের বিজেপি ও অকালির (Shiromani Akali Dal) মধ্যে বরফ গলার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
কৃষক আন্দোলনেই ভেঙেছিল পুরনো জোট
১৯৯৬ সাল থেকে এনডিএ-র শরিক ছিল শিরোমণি অকালি দল (Shiromani Akali Dal)। পাঞ্জাবে বিজেপির অন্যতম পুরনো রাজনৈতিক সহযোগী হওয়ার পাশাপাশি দিল্লিতে এনডিএ সরকার গঠনেও অকালির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু ২০২০ সালে কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সেই সম্পর্কে বড় ফাটল ধরে। সেপ্টেম্বরে এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে আসে অকালি দল। এরপর ২০২২ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে দুই দলই আলাদা পথে লড়াই করে। ফলও আশানুরূপ হয়নি কারও। ক্ষমতায় আসে আম আদমি পার্টি।
সেই বিচ্ছেদের পর শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সুখবীর সিং বাদল। বৈঠকের পরদিনই আসন পুনর্বিন্যাস বিলকে (Delimitation bill) সমর্থনের ঘোষণা, ঘটনাক্রমের এই ধারাবাহিকতাই নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।
তাহলে কি ফের জোট?
আসন্ন পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশ্ন উঠছে, আসন পুনর্বিন্যাসে (Delimitation bill) অকালির সমর্থন কি শুধুই একটি নীতিগত অবস্থান, নাকি তার পিছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত?
কৃষক আন্দোলনের পর বিজেপি ও অকালির সম্পর্ক যেখানে কার্যত তলানিতে পৌঁছেছিল, সেখানে মোদী-বাদল সাক্ষাৎ এবং তার পরেই কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে অকালির সমর্থন, দুই ঘটনাকে পাশাপাশি রেখে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
তবে এখনও পর্যন্ত বিজেপি ও অকালির (Shiromani Akali Dal) মধ্যে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী জোটের ঘোষণা হয়নি। ফলে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা থাকলেও তাকে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমীকরণ বলা যাচ্ছে না। তবু প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে! ২০২২-এর আলাদা লড়াইয়ের পর এবার কি পাঞ্জাবের ভোটে ফের একসঙ্গে দেখা যাবে বিজেপি ও অকালিকে?


