Aaj lndia Desk, কলকাতা: রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছাত্র সংসদ নির্বাচন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরবে কি না, এখন সেই প্রশ্নই জোরালো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবি তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
অবিলম্বে ছাত্র ভোটের দাবি
ঋতব্রতর বক্তব্য, ছাত্র সংসদ নির্বাচন কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়। তাই দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক পক্ষকে একসঙ্গে এসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটের পরিবেশ ফেরানোর পক্ষে কথা বলতে হবে। তাঁর মতে, অতীতে কেন নির্বাচন বন্ধ হয়েছে, তা নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ না করে এখন দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
‘রাজনীতির সাপ্লাই লাইন ছাত্র রাজনীতি’
ছাত্র রাজনীতির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে একাধিক পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উদাহরণও টানেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, অশোক দেব, তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারী-সহ বহু নেতা ছাত্র আন্দোলনের পরিসর থেকেই মূল রাজনীতিতে উঠে এসেছেন। তাই ছাত্র রাজনীতিকে তিনি মূল রাজনীতির ‘সাপ্লাই লাইন’ হিসেবে দেখছেন।
তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় কলেজগুলিতে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের সুযোগ কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মীরাই সংগঠনের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর পক্ষে স্বাস্থ্যকর নয়।
শেষবার কবে হয়েছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচন?
তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে শেষবার নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে। এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হলেও সেগুলিও বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা।
দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে একাধিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে প্রাক্তনী ও বহিরাগতদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সামনে এসেছে।
এদিকে সম্প্রতি উচ্চ শিক্ষা দফতর সরকারি কলেজগুলির পুরনো পরিচালন সমিতি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজ্য সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলের।


