Aaj India Desk, কলকাতা: দলের ভাবমূর্তি ও সংগঠন নিয়ে কড়া অবস্থান বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, রাজ্যবাসী শুধুমাত্র ক্ষমতার হাতবদলের জন্য ভোট দেননি, তাঁরা পরিবর্তন চেয়েছেন মানুষের আচরণ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে। দলীয় সংগঠনে কোনও বিচ্যুতি দেখা গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
‘জামা বদল নয়, ভিতরের মানুষটার বদল চেয়েছেন রাজ্যবাসী’
বিজেপিকে ‘বিশুদ্ধ’ রাখার বার্তা দিয়ে দলের কর্মীদের সতর্ক করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যবাসী জামা বদলের জন্য ভোট দেননি, জামার ভিতরের মানুষটার বদল চেয়েছেন।’’ অর্থাৎ ক্ষমতার পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজনৈতিক কাজকর্ম ও আচরণেও পরিবর্তন চান সাধারণ মানুষ—এমনই বার্তা দিয়েছেন তিনি।
ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, কোনও রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য ডিলিমিটেশন করা হচ্ছে না। কলকাতায় জনসংখ্যার চাপ বেড়েছে এবং মানুষের পরিষেবার স্বার্থেই এই প্রক্রিয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
বিচ্যুতি দেখলেই ব্যবস্থা, তোলাবাজিতে ‘জিরো টলারেন্স’
দলের কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে আগেও একাধিকবার সরব হয়েছেন শমীক। এবারও জানিয়ে দিয়েছেন, সংগঠনের কোথাও বিচ্যুতি ধরা পড়লে দলীয় স্তরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তোলাবাজির ক্ষেত্রে বিজেপির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও তিনি ফের স্পষ্ট করেছেন। এর আগে অভিযুক্তদের শুধরে যাওয়ার জন্য সময়সীমা বা ‘ডেডলাইন’-এর কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
‘২০৭’ আসনের শরীরী ভাষা নিয়ে সতর্কবার্তা
দলের বর্তমান শক্তি নিয়েও কর্মীদের সতর্ক করেছেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, পৃথিবীর সব একদলীয় আধিপত্যেরই একসময় পতন হয়েছে। বর্তমানে বিজেপির ২০৭টি আসন রয়েছে। এই সংখ্যার জোরে দলের কেউ যদি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েন, তার পরিণতি বিপজ্জনক হতে পারে।
দলীয় নেতাদের ‘ডিম থেরাপি’ নিয়েও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর ইঙ্গিত, বর্তমানে যে প্রতিবাদ বা ক্ষোভের মুখে অন্যরা পড়ছেন, পরিস্থিতি বদলালে সেই একই ঘটনা বিজেপির দিকেও ঘুরে আসতে পারে।
‘চার ঘণ্টার বিজেপি’ চান না মানুষ
দলের ‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, দলের কিছু নেতা তৃণমূলের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন। এমনকী কে কোন পুরসভা বা ওয়ার্ডে প্রার্থী হবেন, তা নিয়েও কেউ কেউ আগেভাগে হিসাব কষতে শুরু করেছেন বলে দাবি তাঁর।
শমীকের স্পষ্ট বার্তা, মানুষ বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ দেখতে চান না। ‘চার ঘণ্টার বিজেপি’-ও চান না তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের সতর্ক থেকে সংগঠনের আদর্শ ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার বার্তাই দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি।


