Aaj India Desk, কলকাতা: শেষকৃত্য হয়ে গেলেও হাতে আসছে না মৃত্যুর শংসাপত্র। একই সমস্যায় বার্থ সার্টিফিকেটের আবেদনকারীরাও। পেনশন থেকে পাসপোর্ট—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে থাকায় বাড়ছে ভোগান্তি।
শেষকৃত্যের পরও মিলছে না ডেথ সার্টিফিকেট
কলকাতা পুরসভার জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত অনলাইন পোর্টাল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বহু মানুষ। শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পরও অনেক পরিবারের হাতে পৌঁছচ্ছে না ডেথ সার্টিফিকেট। ফলে মৃতের পেনশন, ফ্যামিলি পেনশন, ব্যাঙ্কের টাকা, বিমার দাবি কিংবা সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজ এগোতে পারছে না।
বাবার মৃত্যুর পর বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় এসেছিলেন শিলাদিত্য লাহিড়ি। কেওড়াতলা শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হলেও এখনও তিনি বাবার ডেথ সার্টিফিকেট পাননি। এমনকী সার্টিফিকেট পাওয়ার অনলাইন লিঙ্কও তাঁর মোবাইলে আসেনি। শ্রাদ্ধের পর মাকে নিয়ে বেঙ্গালুরু ফেরার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় কাজের জন্য তাঁকে কলকাতায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
একই সমস্যায় বহু পরিবার
বালিগঞ্জের পরাগ সেনের পরিবারেরও একই অভিজ্ঞতা। কয়েকদিন আগে এক আত্মীয়ের মৃত্যুর পর কেওড়াতলা শ্মশান থেকে শুধুমাত্র শেষকৃত্যের খরচের রসিদ দেওয়া হয়। ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
পুরসভা সূত্রে জানা যাচ্ছে, কেওড়াতলায় প্রতিদিন প্রায় ৮০-১০০টি এবং নিমতলায় প্রায় ১০০-১২০টি দেহের শেষকৃত্য হয়। অন্যান্য শ্মশান মিলিয়ে কলকাতায় দৈনিক প্রায় ২৫০টি শেষকৃত্য হয়। কিন্তু জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে ডেথ সার্টিফিকেট না পাওয়ার অভিযোগ উঠছে।
বার্থ সার্টিফিকেটেও দীর্ঘ অপেক্ষা
শুধু মৃত্যুর শংসাপত্র নয়, জন্মের শংসাপত্র নিয়েও সমস্যায় পড়েছেন নাগরিকরা। মানিকতলার রাজা সরখেল মেয়ের পাসপোর্ট নবীকরণের জন্য প্রায় এক মাস আগে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেটের আবেদন করেছিলেন। এখনও নথি হাতে পাননি।
কেন বন্ধ পোর্টাল?
পুর আধিকারিকদের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় জমা পড়া কিছু জন্ম ও মৃত্যুর নথি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু হওয়ায় আপাতত জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত পোর্টাল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে প্রতিদিন কলকাতা পুরসভার সদর দফতর ও বিভিন্ন বোরো অফিসে সার্টিফিকেটের খোঁজে ভিড় বাড়ছে। কলকাতার পাশাপাশি সল্টলেক-সহ রাজ্যের অন্য এলাকাতেও একই ধরনের সমস্যার খবর মিলছে।
পুরসভার একটি সূত্রের দাবি, ১০ আগস্টের মধ্যে পোর্টাল ফের চালু হতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। ফলে কবে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।


