Aaj lndia Desk, কলকাতা: রাজ্যে গৃহহীন মানুষের মাথার উপর পাকা ছাদের ব্যবস্থা করতে একসঙ্গে দু’টি বড় পদক্ষেপে এগোচ্ছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। একদিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ (পূর্বতন ‘বাংলার বাড়ি’) প্রকল্পের আওতায় প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর যাঁরা লিন্টন পর্যন্ত বাড়ির কাজ শেষ করেছেন, সেই প্রায় ১০ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে বৃহস্পতিবার থেকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাঠানো শুরু হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
আবাস প্লাস সমীক্ষায় চিহ্নিত আরও ২০ লক্ষ পরিবার
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ (PMAY-G)-এর আওতায় রাজ্যজুড়ে জোরকদমে চলছে ‘আবাস প্লাস সমীক্ষা’। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারি কর্মীরা প্রকৃত গৃহহীন ও যোগ্য পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করছেন, যাতে কোনও দরিদ্র পরিবার আবাসন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।
নবান্ন সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ লক্ষ সম্ভাব্য সুবিধাভোগীকে এই সমীক্ষার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁরা আগে রাজ্য বা কেন্দ্রের কোনও আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে তথ্য যাচাই
প্রথমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আরও নিখুঁত ও স্বচ্ছ তালিকা তৈরির লক্ষ্যে সমীক্ষার সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়েছে। পঞ্চায়েত স্তরের প্রতিনিধি ও সরকারি আধিকারিকরা প্রতিটি পরিবারের নথি ও সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করছেন।
ভুয়ো নাম বাদ, প্রকৃত উপভোক্তাদেরই অগ্রাধিকার
অতীতে আবাসন প্রকল্পে ভুয়ো ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী তালিকায় থাকা ১৮ লক্ষ পরিবারের মধ্যে সমীক্ষায় দেখা যায়, ১০ লক্ষ পরিবার লিন্টন পর্যন্ত কাজ শেষ করেছেন। তাঁরাই এখন দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাচ্ছেন। বাকি ৮ লক্ষের মধ্যে কিছু ভুয়ো আবেদনকারীর নাম প্রশাসনিক যাচাইয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এবার আবাস প্লাস সমীক্ষার মাধ্যমে নতুন করে ২০ লক্ষ পরিবারের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ১৫ আগস্টের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়ার পর রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বয়ে নতুন তালিকার ভিত্তিতে পরবর্তী পর্যায়ের আর্থিক সহায়তা ও পাকা বাড়ি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।


